যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশ

নতুন বছরের এপ্রিল মাসে পণ্য রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশ। ওই সময় সম্পূর্ণ নতুন প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশকে এ সুবিধা দেয়া হবে। তবে এখন শুধু বাংলাদেশ নয়, স্বল্পোন্নত কোন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে না। ডিসেম্বরে মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ এ্যাকশন প্লান ও অবস্থানপত্রের ওপর ইউএসটিআরে জিএসপি রিভিউ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই শুনানির পর এখনও চূড়ান্ত রায় প্রদান করেনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর। আগামী এপ্রিল মাস নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র সরকার নতুন প্যাকেজের আওতায় জিএসপি সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
সূত্র মতে, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের টিকফা চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তি করার পর অনেকেই মনে করছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করবে ইউএসটিআর। কিন্তু দু’দেশের সরকারী পর্যায় থেকে এর সত্যতা কখনও নিশ্চিত করা হয়নি। বরং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বার বার বলা হয়েছে-টিকফার সঙ্গে জিএসপির কোন সম্পর্ক নেই। তবে দুটোই যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত তাই টিকফা হলে জিএসপি ফিরে পাওয়া সহজ হবে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, টিকফার সঙ্গে জিএসপির কোন সম্পর্ক নেই। পণ্য রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুুবিধা পুনর্বহাল হওয়া জরুরী। বাংলাদেশ এ্যাকশন প্লান নামে ইউএসটিআর যে কর্মসূচী বাস্তবায়নের কথা বলছে তার অগ্রগতি ভাল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার বিশেষ করে পোশাক ও চিংড়ি শিল্পের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে। এছাড়া যেসব শর্তপূরণের কথা বলা হয়েছে-প্রতিনিয়ত তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এ্যাকশন প্লানের অগ্রগতিও ভালো। ফলে পণ্য রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা আপাতত কোন দেশই পাচ্ছে না। এ সংক্রান্ত তাদের আগের প্যাকেজ শেষ হয়ে গেছে। আগামী এপ্রিল-মে পর্যন্ত নতুন প্যাকেজ চালু হলে বাংলাদেশকেও এ সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও নিয়মিত ইউএসটিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, অবস্থানপত্র তৈরি ও জবাব প্রদানের আগে ইউএসটিআরের ১৬টি শর্ত পূরণের অগ্রগতি পুনর্মূল্যায়ন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই শর্তগুলোর মধ্যে ২শ’ কলকারখানার পরিদর্শক নিয়োগ, চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সিডিএ পুনর্গঠনের আওতায় ৩২ জন পরিদর্শকের পদ সৃষ্টি, ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এফএসসিডি পুনর্গঠনের আওতায় ২৬০ জন পরিদর্শক নিয়োগ, শিল্প এলাকায় ৭টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, সিআইএফ, সিডিএ ও এফএসসিডি নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকের চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত, সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স ফোরামের অনুমোদিত চেকলিস্টের আলোকে সিআইএফ এবং এফএসসিডি তাদের কার্যক্রম পরিদর্শন, আইএলওর সহযোগিতায় ওয়েবসাইট ভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি, সিআইএফ, এফএসসিডি ও ডিওএলে তাদের বিদ্যমান হটলাইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, সংশোধিত শ্রম আইনের একক মৌলিক ইংরেজী অনুবাদপ্রাপ্তি নিশ্চিত, রেবেকা গার্মেন্টের চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল, আমিনুল হত্যার অগ্রগতি, বিসিডব্লিউএস এবং সেফের নিবন্ধন ও পুনর্নিবন্ধনের অগ্রগতি, ইপিজেড আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, বিদ্যমান শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতা ও দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিত করা ও বিদ্যমান শ্রম আইন ইপিজেডে প্রয়োগ।
এছাড়া নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয় ওই শর্তে।
এসব শর্তগুলোর অধিকাংশ পূরণ হওয়ায় সরকার আশা করছে, জিএসপি ফিরে পাবে বাংলাদেশ। ডিসেম্বর মাসে জিএসপি রিভিউ শুনানির ওপর ইউএসটিআর চূড়ান্ত মতামত প্রদান প্রস্তুত করছে। শর্তপূরণে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি তাতে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানিতে জিএসপি পুনর্বহাল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র মতে, জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করতে ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশ এ্যাকশন প্লান তৈরি করে দেয়। তাতে বলা হয়-ডিসেম্বরের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ হলে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এসব শর্তের অগ্রগতি নিয়ে ইতোমধ্যে বাণিজ্য, শ্রম ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদের সভাপতিত্বে জিএসপি ইস্যুতে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রণালয়ে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ‘বাংলাদেশ এ্যাকশন প্লান ২০১৩’ অগ্রগতি রিভিউ করা হয়েছে। ইউএসটিআর যে ১৬টি শর্ত দিয়েছে তার সব অগ্রগতি ভাল। তাদের দেয়া এ্যাকশন প্লানের একটি জবাব তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৪ নবেম্বর বাংলাদেশের অবস্থানপত্র ইউএসটিআরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জিএসপি পুনর্বহালে এ্যাকশন প্লান অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। এর অগ্রগতিও ভাল। আশা করছি, ইউএসটিআর রফতানিতে জিএসপি ফিরিয়ে দেবে।