১৮ হাজার প্রতিবন্ধীর কর্মসংস্থানে আগ্রহী বিজিএমইএ

কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হলে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে পোশাক রফতানিকারকের সংগঠন বিজিএমইএ। সম্প্রতি জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় এমন আশ্বাস দেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, প্রতিবন্ধীদের মধ্যে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা যায়।
গত ২৪ নভেম্বর বিজিএমইএ ভবনের সভাকক্ষে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শাহিদউল্লাহ আজিমের সভাপতিত্বে ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদফতরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আবদুর রাজ্জাক, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) টিভিইটি রিফর্ম প্রজেক্টের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর আর্থার ই. শিয়ার্স ও জেসি পেনির পরিচালক ব্যারিস্টার জেনিফার কে জব্বার প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শাহিদউল্লাহ আজিম বলেন, কারিগরি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতিবন্ধীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা সম্ভব, যারা দেশের শ্রমশক্তিতে মূল্যবান অবদান রাখবে। এ বিষয়ে কেয়া গার্মেন্টস লিমিটেড, ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড ও টেক্স ইউরোপের (বিডি) উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব পোশাক কারখানায় প্রতিবন্ধীদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তারা অন্য সাধারণ শ্রমিকদের মতোই স্বাভাবিক কাজ করছেন। এজন্য তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী এ নেতা বলেন, প্রতিবন্ধীদের দক্ষতা অর্জনে শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষক ও কারিগরি ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে। কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতাসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করে আমাদের (বিজিএমইএ) কাছে তালিকা পাঠায়, আমরা তাদের চাকরির ব্যবস্থা করব। এতে দেশের ৩ হাজার ৬০০ পোশাক কারখানায় ১৮ হাজার প্রতিবন্ধীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় বলা হয়, সরকার কর্তৃক জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০১১ অনুমোদন দেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। দক্ষতা উন্নয়নে বর্তমানে আমাদের একটি কাঠামো রয়েছে। এখন দরকার একটি নমনীয়, শ্রমকল্যাণমূলক বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ বিষয়ে কর্মকৌশল তৈরি করা, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় আরো বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) পরামর্শে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সংস্কারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ: দক্ষতা উন্নয়ন রূপকল্প ২০১৬ উপস্থাপন হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ রূপকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।