ময়মনসিংহে সুগন্ধি ‘বিনা ধান’ চাষে সফল চাষি

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত পোলাওর চালের জন্য উচ্চফলনশীল সুগন্ধী জাতের বিনা ধান-১৩ চাষ করে ময়মনসিংহের সদর উপজেলার কৃষকরা সুফল পেয়েছেন। এ ধান সুগন্ধী কালিজিরা ধানের বিকল্প হিসেবে কাজে লাগবে বলে কৃষক ও গবেষকগণ জানান। বাংলাদেশে এটাই প্রথম আবিষ্কার হয়েছে বলে বিনার বিজ্ঞানীরা জানান।দেশে স্থানীয় জাতের পোলাওর চালের কালিজিরা ধান থেকে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন গবেষণা করে এই উচ্চফলনশীল জাতের সুগন্ধী, অধিক ফলন সম্পন্ন বিনা ধান-১৩ উদ্ভাবন করে সাফল্য অর্জন করেছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের সদর উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের বিনা ধান-১৩ কাটার এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে বিনা বিজ্ঞানীরা এই ধানের কার্যকারিতার কথা উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন।বিনা ধান-১৩ এর উদ্ভাবক বিনা বিজ্ঞানী ড. সিদ্দিকুর রহমান জানান, বিনা ধান-১৩ এবছরই ছাড় করা হয়েছে। দেশীয় কালিজিরা ধান থেকে গবেষণার মাধ্যমে এই ধানের উদ্ভাবন। এই ধানের বৈশিষ্ট্য হলো ধানটি পেকে গেলেও সবুজ রঙের থাকে, সহজে হেলে পড়ে না, এটি অনেক বেশি সুগন্ধী, কালিজিরা ধান থেকে প্রতি হেক্টরে একটন বেশি ফলন হয় এবং সহজে মারাই করা যায়। কৃষকরা এই ধান চাষ করে বেশ সুফল পেয়েছে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের কৃষক শামছুদ্দিন জানান, এ বছর প্রথম এই ধান চাষ করে স্থানীয় জাত কালিজিরা ধানের চেয়ে বেশি ফলন পেয়েছি, এই ধানের চিটা অনেক কম হয়। তিনি জানান, এটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো পরাগায়নের সময় বৃষ্টি হলে অন্য ধানের মতো এটি মাটিতে হেলে পড়ে না। মারাইয়ের জন্য এটি খুব সুবিধাজনক।সমপ্রতি ধান কাটা ও মাঠ দিবসে বিনার পরিচালক প্রশাসন ড. আজগার আলী সরকারের সভাপতিত্বে কৃষক সমাবেশে বিনার পরিচালক গবেষণা ড. এম এ সালাম প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিনা বিজ্ঞানী ড. রইসুল হায়দার, জুলকান নাইন, আশিকুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বিনা ধান-১৩ ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হলে দেশে পোলাওর চালের সঙ্কট উত্তরণ সম্ভব।

http://www.ittefaq.com.bd/admin/news_images/2013/12/13/thumbnails/image_92892.jpg