চার মাসে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১৬ শতাংশ

 

চলতি বছরের শুরু থেকেই হরতাল-সহিংসতাসহ নানা কারণে পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে রপ্তানিতে বহু বাধা-প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। নানা প্রতিকূলতার পরও ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো হয়েছে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক বলে রপ্তানিকারকরা মনে করছেন। গত ৪ মাসে ৯,৫৪০ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ৯,৭৪৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি হওয়ায় ২ শতাংশের বেশি রপ্তানি আয় অর্জন হয়েছে। আর প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। গতকাল ইপিবির (রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই সব তথ্য জানা গেছে।
ইপিবি সূত্র মতে, রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে নিট (গেঞ্জি জাতীয় পোশাক) এবং ওভেনই (শার্ট,প্যান্ট জাতীয় পোশাক) প্রধান রপ্তানি পণ্য। তাই এই দুই খাতে রপ্তানি ভালো হলে মোট রপ্তানি আয়ও ভালো হয়। এর বাস্তব প্রমাণ চলতি বছরের গত ৪ মাসেও দেখা গেছে। তাই তো রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২০৬ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার বা ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি হয়েছে। কারণ গত ৪ মাসে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯,৫৪০ মিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে অর্জন সম্ভব হয়েছে ৯,৭৪৭ মিলিয়ন ডলার। এর প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে মোট রপ্তানি হয়েছিল ৮,৩৬৮ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার।
মোট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হলেও গত অক্টোবর মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়নি। গত মাসে ২,২৬০ মিলিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় অর্জন হয়েছে ২,১১৯ মিলিয়ন ডলার। অর্জন কম হয়েছে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। তবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ০৩ শতাংশ। কারণ গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় অর্জন সম্ভব হয়েছিল ২ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ডলার। মোট রপ্তানি আয় আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় চিংড়ি, কৃষিপণ্য, কম্পিউটার সেবা খাতেও ভালো অবস্থান দেখা গেছে।
গত ৪ মাসের রপ্তানি আয়ের ব্যাপারে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ও এক্সপোর্টাস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, তাজরীনের অগ্নিকা-, রানা প্লাজা ধস, ব্যাংক সুদের উচ্চহারের পরও রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এতো কিছুর পরও উদ্যোক্তারা যে ঝুঁকি নিয়ে রপ্তানি বাড়িয়েছে তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। তবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যেভাবে এগুচ্ছে পরবর্তীতে আমরা তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারবো না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের তৈরি পোশাক
কারখানার কর্মপরিবেশসহ শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করতে গিয়ে অধিকাংশ ছোট ও মাঝারি কারখানা টিকতে পারবে না। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৩০০ টাকা মালিকরা মানলেও তা পরিশোধে অনেকের সক্ষমতা নেই। ফলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে নিট পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ, অবকাঠামো সমস্যা তো আছেই, এর সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ, বায়ারদের নিরাপত্তাহীনতার পরও গত ৪ মাসে রপ্তানির যে প্রবৃদ্ধি তা সন্তোষজনক। তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় এটা কম হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন সমস্যার কারণেই এটা হয়েছে। তাই ওই সব সমস্যা দূর করা সম্ভব হলে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে আরো ভালো অর্জন সম্ভব। গত ৪ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অর্জন কম হলেও তা খুব একটা নেতিবাচক কিছু নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সুত্র: ভোরের কাগজ