জাতিসংঘের কাছে শীর্ষ দেনাদার যুক্তরাষ্ট্র পাওনাদার বাংলাদেশ

আর্থিক টানাপড়েনে থাকা জাতিসংঘের কাছে শীর্ষ দেনাদার রাষ্ট্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আর শীর্ষ পাওনাদার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। এ তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফর ম্যানেজমেন্ট ইয়োকো তাকাছু। তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের চাঁদা ও প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধ করতে বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ৯ অক্টোবর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ইয়োকো তাকাছু জানান, জাতিসংঘে প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধ না করার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভেনিজুয়েলা। অন্যদিকে জাতিসংঘের কাছে পাওনাদারদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারত, ইথিওপিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, রুয়ান্ডা ও নাইজেরিয়া।

শীর্ষ আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা জানিয়ে ইয়োকো তাকাছু বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো। তবে নিয়মিত বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে খুবই টানাটানি রয়েছে।’

জাতিসংঘের শীর্ষ ব্যবস্থাপকের এ বক্তব্যের পরই সংস্থাটির প্রশাসন ও বাজেটের এই সংকট সমাধানে পৌঁছতে উদ্যোগ নিয়েছে খোদ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

জাতিসংঘের কাছে পাওনাদার রাষ্ট্রগুলোর অর্থ পরিশোধ সম্পর্কে ইয়োকো তাকাছু বলেন, এ বছরের প্রাক্কলনের হিসাব আগামী জানুয়ারির আগে নিশ্চিত করে কিছু জানানো যাবে না। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হবে বলেও জানান জাতিসংঘের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত এই শীষ কর্মকর্তা।

এদিকে জাতিসংঘের প্রশাসনিক ও বাজেটের দায়িত্বে পঞ্চম কমিটির সভায় তিনি বলেছেন, ‘এ বছরের শেষ নাগাদ জাতিসংঘের যে পরিমাণ নগদ অর্থপ্রাপ্তির হিসাব অনুমান করা হয়েছে তা ইতিবাচক। কিন্তু সে হিসাবের বড় অংশ এখনো পাওয়া যায়নি, অপরিশোধিত রয়ে গেছে।’

ইয়োকো আরো জানান, জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ৩৬ শতাংশ অর্থাৎ প্রতিশ্রুত ৯৪৫ মিলিয়ন ডলার জাতিসংঘকে এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ২০১২ সালের এই সময় (অক্টোবর) পর্যন্ত এই অপরিশোধিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৫৫ মিলিয়ন ডলার। এ বছর ১ অক্টোবর পর্যন্ত জাতিসংঘের কাছে নিয়মিত বাজেটে নগদ অর্থ রয়েছে ৫৫ মিলিয়ন ডলার। নিয়মিত বাজেট বাড়াতে বকেয়া পরিশোধে নির্ধারিত ৫ অক্টোবরের সময়সীমার মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ১৩৪টি দেশ তাদের বকেয়া পুরোপুরি পরিশোধ করেছে। গত ২০১২ সালের এ সময় সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ করেছিল ১২৯টি দেশ।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৭৯৫ মিলিয়ন, ব্রাজিলের কাছে ৭৫ মিলিয়ন এবং ভেনিজুয়েলার কাছে ২২ মিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের ৫৩ মিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে অন্য ৫৬টি দেশের কাছে। তবে সেপ্টেম্বরে ‘শান্তি মিশন’ খাতে যুক্তরাষ্ট্র ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। সামগ্রিক বাজেটে চারটি খাতের দ্বিতীয় শান্তি মিশন খাতে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় বেড়েছে জাতিসংঘের। ২০১২ সালে এই ব্যয় বাড়ে ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার।