ডালে ডালে আম,পাকবে নভেম্বরে

আকারে বেশ বড়, দেখতে সুন্দর ও রঙিন, স্বাদে অতুলনীয়, আঁশযুক্ত চ্যাপ্টা আঁটি সমৃদ্ধ রসে ভরপুর এক ভিন্ন প্রজাতির আমের ফলন হয়েছে আগস্ট মাসে, যা পাকবে নভেম্বর মাসে।আমের ভারে নুয়ে পড়ছে ছোট গাছটি।শুরু হয়েছে অসময়ে আম চাষের সম্ভাবনা।প্রতিদিনই আসছে দর্শনার্থী।আম ভোক্তাদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলাম।গাছ ও আমের যত্নের দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা হটিকালচার সেন্টার।স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, এ আমের জাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে শেষ মৌসুমে আমের চাহিদাপূরণ সম্ভব হবে।

উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাঁতকুড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ শহিদুল ইসলাম তিন বছর আগে বাজার থেকে একটি আমের চারা কিনে ধানের ক্ষেতের আইলে রোপণ করেন।তিনি জানান, এতে গত বছর ফল আসে।প্রায় ৩শ গ্রাম ওজনের প্রত্যেকটি পাকা আম খুবই রঙিন দেখা যায়।আঁশযুক্ত আমের আটিটা খুব ছোট চ্যাপ্টা আকারের হয়।পাকা আম মিষ্টি হলেও কাচা আম অত্যন্ত টক।গাছের উচ্চতা ৫/৬ ফুট হলেও প্রচুর আম হয়।আমের ভারেই গাছের ডালগুলো ভেঙ্গে যায়।শহিদুল ইসলামের মা রাশেদা বেগম (৮২) জানান, গত বছর কার্তিক মাসের শেষ দিকে অর্থাত্ নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে আম পাকা রঙ ধারণ করে।গৌরীপুর সরকারি কলেজের এইচ.এস.সি’তে অধ্যয়নরত সাজ্জাদুল হাসান নাহিদ বলেন, এ বছর পাঁচ শতাধিক আমের কুঁড়ি আসে।প্রথম দিকে অতিরিক্ত কুঁড়ি আসার কারণেই ২০/২৫ গ্রাম ওজনের আগেই ঝরে যায় শতাধিক আমের কুঁড়ি।নাবি জাতের এই আমের সন্ধান পেয়েই ছুটে আসেন গৌরীপুর হটিকালটার সেন্টারের উদ্যান তত্ত্ববিদ কৃষিবিদ মোঃ মেহেদী মাসুদ।রোগাক্রান্ত ও দুর্বল আকৃতির আরও কিছু আম ছিঁড়ে দিয়ে গাছটিকে করা হয়েছে কিছুটা হালকা।

মেহেদী মাসুদ জানান, বর্তমানে গাছটিতে রয়েছে ১৪৭টি আম।আমের আটি এখনো শক্ত হয়নি।আমের ওজন ১০০ গ্রাম।নভেম্বরের দিকে যখন পাকবে তখন ৩শ/৪শ গ্রাম হতে পারে।স্থানীয় কৃষিবিভাগ, হটিকালচার সেন্টার ও আশপাশের বিজ্ঞ কৃষক এখনো আমের জাত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না।হটিকালচার বিভাগ গাছটিতে কলম দেয়ার কথা ভাবছেন।এ খবর শুনেই গাছের চারা সংগ্রহ করতে সৌখিন কৃষকরা ৩ হাজার টাকা করে এক একটি চারা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।এবার সর্বোচ্চ ৫/৬ টি কলম দেয়া সম্ভব।মহেদী মাসুদের ধারণা, বারোমাসি আমের সঙ্গে ল্যাংড়া আমের ক্রস হয়ে এ জাতের জন্ম হয়েছে।এলাকাবাসী অবশ্য এ আমের জাত কে ‘গৌরী গোল্ড ম্যাঙ্গু’ আবার কেউ ‘শহিদুল আম’ বা ‘আইলের আম’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন।বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারের কৃষিবিদ আব্দুর রহিম জানান, গাছ ছোট, পাতাও ছোট, এটা সৌখিন বাউ-৯ জাতের হতে পারে।