চোর ধরবে মোবাইল ফোন

 
 

উদ্ভাবনচোর ধরবে মোবাইল ফোন মোহাম্মাদ বাবুল আকতার, মণিরামপুর

ঘরে চোর ঢুকেছে। অমনি বেজে উঠল কানের কাছে থাকা মোবাইল ফোন। ঘরে আগুন লেগেছে। আশপাশে কেউ নেই। এ অবস্থায় সবার অগোচরেই তাতে পানি ঢালার কাজটি চলতে থাকবে। আর এসব কাজ সমাধা করবে একটি যন্ত্র। এর উদ্ভাবক যশোরের মণিরামপুর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন। সেই সবুজ- ‘শত বাধা পেরিয়ে’ শিরোনামে যাকে নিয়ে লেখা হয়েছিল কালের কণ্ঠে।
উদ্ভাবক সবুজ যন্ত্রটির নাম দিয়েছে ‘থিফ অ্যান্ড ফায়ার কন্ট্রোল মেশিন’। যন্ত্রটির কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে সে একটি সুইচ দেখিয়ে বলে, ‘ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় এটি অন করে মেশিনের নির্ধারিত স্থানে একটি মোবাইল সেট রেখে দিতে হয়। ঘরে চোর ঢুকলে মোবাইলের সেন্ড বাটনে মেশিনটি ধাক্কা দেবে। এতে ঘরের মালিকের কাছে থাকা মোবাইল সেটে রিং বেজে উঠবে। আর গৃহকর্তা বা কর্ত্রী কলের নম্বর দেখে বুঝতে পারবেন যে তাঁর ঘরে চোর ঢুকেছে। তাৎপর্যের বিষয় হলো, মেশিনটি মোবাইলের সেন্ড বাটনে এমনভাবে ধাক্কা দেবে যে চোর তা বুঝতে পারবে না।’ মেশিনের আরেকটি সুইচ দেখিয়ে এই তরুণ উদ্ভাবক বলে, এটি অন করে রেখে দিলে ঘরে আগুন লাগলে মেশিনটি আপনা থেকেই অগ্নিকাণ্ডস্থলে পানি ফেলে আগুন নেভানোর কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে পাইপের মাধ্যমে পানির ট্যাংকের সঙ্গে সংযোগ থাকতে হবে। বর্ণনার পাশাপাশি সবুজ মেশিনের দুটি পৃথক কার্যকারিতাও হাতেকলমে দেখায়।
তরুণ উদ্ভাবক সবুজ কেবল একটি যন্ত্র উদ্ভাবনেই থেমে নেই। ইতিমধ্যে সে এয়ারকুলার, অটো লাইটিং মেশিন ও কাচের পরিবর্তে তরল পদার্থ দিয়ে লেন্স তৈরি করেছে। সে জানায়, ঘরে একা থাকার সময় প্রচলিত এয়ারকুলার দিয়ে পুরো ঘর ঠাণ্ডা করাটা এক অর্থে বিদ্যুতের অপচয়। এ ক্ষেত্রে ডেস্ক এয়ারকুলার ব্যবহার করলে একজনের উপযোগী জায়গা ঠাণ্ডা হবে। সাশ্রয় হবে বিদ্যুতের। আর অটো লাইটিং মেশিনের কোনো সময় সুইচ অফ বা অন করার প্রয়োজন নেই। আপনা থেকেই রাতে জ্বলবে এবং দিনে বন্ধ হয়ে যাবে। সবুজ তার লেন্স তৈরি করেছে পানি ও বেনজিন অথবা গি্লসারিনের সমন্বয়ে। জানাল, তার উদ্ভাবিত লেন্স উত্তল ও অবতল উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়; কাচের লেন্স দিয়ে যা সম্ভব নয়।
মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিদ্যুৎ রায় বলেন, ‘হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে নিত্যদিন দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা এই তরুণ সত্যিই একটি প্রতিভা। বিজ্ঞান গবেষণায় ডুবে থেকে সে একের পর এক নতুন বিষয় উপস্থাপন করে চলেছে। যথোপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’
সবুজ হোসেন উপজেলার গাংড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে। তার বাবা রাশেদ শেখ মানসিক প্রতিবন্ধী। দুই শতকের ভিটেবাড়ি ছাড়া সহায়-সম্বল বলতে আর কিছু নেই পরিবারটির। ২০১২ সালে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়ার পর সবুজকে নিয়ে কালের কণ্ঠে ‘শত বাধা পেরিয়ে’ কলামে ‘মা-বাবার কষ্ট ঘোচাতে চায় সবুজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় তার লেখাপড়া এগিয়ে চলছে।