দরিদ্র নারীদের পুষ্টি চাল দেবে সরকার

দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্যমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখন থেকে দেশের দরিদ্র নারীদের বিনা মূল্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদেশ থেকে আমদানি করা এই পুষ্টি চাল ভিজিএফ ও ভিজিডির চালের সঙ্গে মিশিয়ে সরবরাহ করা হবে। বর্তমানে চীন, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে এ চাল খাওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এ চাল এখনো সরাসরি খাওয়ার উপযুক্ত না হওয়ায় তা প্রতি ১০০ কেজিতে এক কেজি করে মিশিয়ে সরবরাহ করা হবে বলে জানা গেছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই পুষ্টিসমৃদ্ধ চালে ১২ প্রকারের ভিটামিন থাকে। এ জন্য বাংলাদেশিরা শুধু এ চাল আলাদা করে রান্না করে খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। তাই দেশি চালের সঙ্গে পুষ্টি চাল মিশিয়ে দেওয়া হবে।জানা গেছে, চীন ও ভিয়েতনামে এ চাল এখনো অনেক উচ্চ মূল্য। প্রতি কেজি চালের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই হাজার ৫৭৫ টাকা। বাংলাদেশে দরিদ্রদের জন্য জাতিসংঘ খাদ্য সংস্থা ডাব্লিউএফপি (ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম) এই চাল বিনা মূল্যে সরবরাহ করছে। প্রাথমিকভাবে গত জুন মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গাপীড়িত কুড়িগ্রাম ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরায় ছয় হাজার দুস্থ নারীকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হয়েছে। এই চালের প্রতি ১০০ কেজিতে এক কেজি করে পুষ্টি চাল মেশানো হয়। ভিজিডির আওতায় সারা দেশে প্রায় সাড়ে সাত লাখ নারীকে এই চাল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে অচিরেই দেশের ভিজিডির আওতাভুক্ত মহিলাদের এ পুষ্টি চাল দেওয়ার কাজ শুরু করা হবে।’এদিকে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সম্প্রতি চীনের বেইজিং ও ভিয়েতনাম সফর করেছে। ওই প্রতিনিধিদলের প্রধান ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনোজ মোহন মিত্র কালের কণ্ঠকে জানান, চীনে তৈরি পুষ্টি চালের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। তাঁরা চীনে এ চাল কিভাবে উৎপাদন ও খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় তা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন। এ চালের ভাতও তাঁরা খেয়েছেন। ত্রাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) চালেও এ পুষ্টি চাল মিশিয়ে বিতরণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। মনোজ মোহন মিত্র আরো জানান, ডাব্লিউএফপি বাংলাদেশকে এ বিষয়ে পাঁচ লাখ ডলার সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণ চালে যে পুষ্টি থাকে, গরিব জনগোষ্ঠী এর চেয়ে বেশি কিছু পায় না। শুধু কার্বোহাইড্রেট মানুষের পুষ্টির জন্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সংযোজিত পুষ্টি চাল গরিব মানুষকে দরকারি পুষ্টি গ্রহণে সহায়তা করবে। সাধারণ চালকে আটা বানিয়ে তাতে ভিটামিন সংযোজন করে অটোমেটিক মেশিনের সাহায্যে ফের চালের আকারে নিয়ে তৈরি করা হয় পুষ্টি চাল। পুষ্টি চালে থাকছে মানবদেহের জন্য অপরিহার্য ভিটামিন-এ, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, ভিটামিন-১২, ফলিক এসিড, আয়রন, জিংক ও মিনারেল।জানা গেছে, খাদ্য তালিকায় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ যে খাদ্য উপাদান অনুপস্থিত থাকে তা পুষ্টি চাল পূরণ করতে পারে এবং এ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের কর্মঠ ও স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারে। প্রথাগতভাবে কলে ছাঁটা চালে পুষ্টি উপাদান খুবই কম থাকে, যা মূলত শর্করার প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ হলেও রান্না করা এই পুষ্টি চালের ভাত দেখতে ও খেতে সাধারণ চালের মতোই।