জিএসপি সুবিধা বাতিল করে পস্তাচ্ছে মার্কিন জনগণ

নতুনদিন প্রতিবেদন: শুধু বাংলাদেশ নয় সকল উন্নয়নশীল দেশের জিএসপি সুবিধাই বাতিল হয়েছে গত পহেলা আগস্ট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ১৩০টি উন্নয়নশীল দেশের জিএসপি সুবিধার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩১ জুলাই। জিএসপি সুবিধা বাতিল হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোসহ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাই, জিএসবি সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে উন্নয়নশীল দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা আন্দোলনমুখী হচ্ছে। মার্কিন ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, জিএসপি সুবিধা বাতিল হওয়া সবার জন্যই ক্ষতিকর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সাল পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের জন্য জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করে বারাক ওবামাও জিএসপি সুবিধা পুনঃবহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জিএসপি সুবিধা বাতিল হলে হাজার হাজার মার্কিন শ্রমিক বেকার হওয়ার আশংকা করছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। এমনকি শতশত মার্কিন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই কারণেই জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনমুখী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা।
জিএসপি সুবিধা ওঠে গেলে তাদেরকে করের নতুন বোঝা বইতে হবে। জিএসপি সুবিধা কার্যকর থাকার ফলে ২০১২ সালে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানির বিপরীতে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার কম কর দিতে হয়েছিল ব্যবসায়ীদের। জিএসপি সুবিধা বাতিল হওয়ার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির পরিমাণ কমে যাবে বলে আশংকা করছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, জিএসপি সুবিধা বাতিল হওয়ার ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে করে মার্কিন জনগণ ভোগান্তির শিকার হবে। জিএসপি সুবিধার আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানীকারদের ও আমেরিকার আমদানিকারকদের সরকারকে কর দিতে হয় না। ফলে, উন্নয়নশীল দেশ ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়। এছাড়া,পণ্যের দামও ক্রেতাদের আওতার মধ্যে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ইউএস চেম্বার অব কমার্স কংগ্রেস নেতাদের কাছে জিএসপি সুবিধা পুনঃনবায়নের আবেদন জানিয়েছে। ইউএস চেম্বার অব কমার্সের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিএসপি শুধুমাত্র উন্নয়নশীল দেশের জন্য ইতিবাচক নয়, মার্কিন ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের জন্যও সহায়ক।
গেল সপ্তাহে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ২৩০টি কোম্পানী ও প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসের কাছে জিএসপি সুবিধার মেয়াদ বাড়াতে আবেদন জানায়। জিএসপি সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে বর্তমানে ২৭৩টি প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছে।আন্দোলনকারীদের বক্তব্য জিএসপি সুবিধা বাতিল হলে মার্কিন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিদিন দুই মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত করের বোঝা বইতে হবে। যা তাদের জন্য অসম্ভব।
তবে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও ভাবছে মার্কিন শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। মার্কিন ব্যবসায়ীদের কাছে জিএসপি সুবিধা বাতিলের হুমকি ও সিদ্ধান্ত চাপ প্রয়োগের একটি যন্ত্র মাত্র। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের উদ্যোক্তাদের চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়েও উদ্বিগ্ন মার্কিনীরা।