উপবৃত্তি ও স্কুল ফিডিং চালু- প্রাথমিকে ঝরে পড়া কমেছে

উপবৃত্তি ও স্কুল ফিডিং চালু- প্রাথমিকে ঝরে পড়া কমেছে

সরকারী বেসরকারী উদ্যোগের ফল

হামিদ-উদ-জামান মামুন ॥ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমছে। উপবৃত্তি ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচীসহ সরকারী নানা কার্যক্রম এবং পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু তার পরও যত সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে তারা অতিদরিদ্র পরিবারেরই সন্তান। এমনই তথ্য পাওয়া গেছে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমিন জনকণ্ঠকে বলেন, সরকারী-বেসরকারী সহযোগিতায় স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমেছে। এই ঝরে পড়া রোধে বর্তমান সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচী পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় সম্প্রসারণের পাশাপাশি উপবৃত্তি কর্মসূচীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। এ কর্মসূচীগুলো দেশের দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকায় দ্রুত সম্প্রসারণ করা হবে। শিক্ষকদের আন্তরিকতায় আজ এই সাফল্য আসছে। তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা হবে। যাতে তারা দরিদ্র পরিবার বা সুবিধাবঞ্চিত পরিবার থেকে আসা কোমলমতি শিশুদের মন ও মানসিকতা উপযোগী করে পাঠদান করাতে পারেন। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম যদি অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে তারা পরবর্তীতে ওপরের ক্লাসগুলোতে গিয়ে আনন্দের সঙ্গে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে। তখন বিদ্যালয়ের পরিবেশ তাদের কাছে এত ভাল লাগবে যে বাবা-মা চাইলেও তাদের অন্যকোন কাজে দিতে পারবে না। বর্তমানে রাজধানীর গুলশানে ব্র্যাকের হট কুক মিল কর্মসূচীর প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অ্যানুয়াল সেক্টর পারফর্মেন্স প্রতিবেদন ২০১২ তে বলা হয়েছে সরকার, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এবং সর্বোপরি (৯৩ দশমিক ৫২ শতাংশ) উন্নয়নে মানুষের অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। এ ক্ষেত্রে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা দুই অর্জনের পথে। ঝরে পড়ার হারও কমছে কিন্তু এখনও এ সমস্যাটি ব্যাপক। মূলত ঝরেপড়া প্রবণতা প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত দ্রুত কমছে কিন্তু পঞ্চম শ্রেণীতে এই সংখ্যা বেশি। তবে পঞ্চম শ্রেণীতে টিকে থাকার সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে, যা ২০০৭ সালের ৫২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০০৯ সালে এসে ৬০ শতাংশ এবং ২০১১ সালে বেড়ে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।