পৌনে ১৬ কোটি মানুষ জন্মনিবন্ধনের আওতায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারের জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম এখন সাফল্যের পথে। ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ২৬ জন মানুষ জন্ম নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দেশের সব নাগরিক জন্ম নিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে বলে আশা করছে সরকার। অপরদিকে গত পহেলা জুলাই থেকে নতুন করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত দেশে ১৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ২৬ জন জন্ম নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। অপরদিকে সারাদেশে মৃত্যু নিবন্ধন হয়েছে ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ৯৫৫ জনের। ইতোমধ্যে জন্ম নিবন্ধন ফি থেকে সরকার আয় করেছে ২৬ কোটি ২ লাখ ৩২ হাজার ৪০ টাকা। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দেশের সব নাগরিক জন্ম নিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে।
সূত্র মতে, ২০০৫ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০০৬ সালে ১৫ দশমিক ১৬, ২০০৭ সালে ৪৯ দশমিক ৯০, ২০০৮ সালে ৮৭ দশমিক ৭০, ২০০৯ সালে ৯২ দশমিক ৪১, ২০১০ সালে ৯৪ দশমিক ১১, ২০১১ সালে ৯৭ দশমিক ৩১ এবং ২০১২ সালে ৯৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ লোক জন্ম নিবন্ধনের আওতায় আসে। সর্বশেষ ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় শতভাগ মানুষ জন্ম নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের জন্ম নিবন্ধন সাফল্যের কার্যক্রম বিদেশেও প্রশংসিত হয়েছে। তাঞ্জানিয়া বাংলাদেশ সরকারের জন্ম নিবন্ধন প্রকল্পের অভিজ্ঞতা সে দেশে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইতোমধ্যে তাঞ্জানিয়া সরকারের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন করে গেছেন।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী দেশে মোট ১৬টি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ সনদ জরুরি। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি, পাসপোর্ট, বিবাহ নিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরিতে নিয়োগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব খোলা, আমদানি ও রফতানির লাইসেন্স, গ্যাস-পানি-টেলিফোন ও বিদ্যুত সংযোগ, বাড়ির নকশা অনুমোদন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এ সনদ লাগবে।
২০০৪ সালে দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন প্রণীত হলেও ২০০৬ সালের জুলাই থেকে তা কার্যকর হয়। কিন্তু জনসচেতনতার অভাবে এখনও অনেকেই নিয়মানুসারে জন্ম নিবন্ধন করেন না। জন্ম নিবন্ধন আইন অনুযায়ী কোন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। ১৮ বছরের নিচে বয়সীদের ক্ষেত্রে বিনা ফিতে জন্ম নিবন্ধন করা যাবে। আর ১৮ বছরের উর্ধে জন্ম নিবন্ধন করতে হলে ৫০ টাকা ফি দিতে হবে। তবে ১ জুলাই থেকে একটি নতুন নিয়ম করা হয়েছে। এই তারিখের পর থেকে কোন মানুষের দুই বছরের মধ্যে জন্ম অথবা মৃত্যু হলে তার কোন ফি দিতে হবে না। তবে এই তারিখ থেকে দুই বছর পর প্রতিবছরের জন্য জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এলাকায় ৫ টাকা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১০ টাকা হারে ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ নেয়া যাবে।
বর্তমানে সারাদেশে সরাসরি জন্ম নিবন্ধনের পাশাপাশি অনলাইনেও জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। দেশের ৫৫টি জেলা ও বিদেশে ১৭টি দূতাবাসের মাধ্যমে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন চলছে। অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান এলাকাগুলো হচ্ছে- খুলনা, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, কক্সবাজার, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, গাজীপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, চাঁদপুর, ফেনী, মৌলভীবাজার, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, নরসিংদী, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, মেহেরপুর এবং বগুড়ার সব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা। অবশিষ্ট ৯ জেলার সব পৌরসভা, দেশের সব ক্যান্টনমেন্ট ও সিটি কর্পোরেশনে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।