নাইকোর মামলায় বাংলাদেশের জয়

নাইকোর মামলায় বাংলাদেশের জয়

20 Aug 2013   08:08:55 PM   Tuesday BdST

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকো রিসোর্সেস লিমিটেড’-এর মামলা খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। 

এ রায়ের ফলে নাইকোর কাছ থেকে টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডের ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে বাংলাদেশের আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকরে কোনো বাধা থাকলো না।
 
নাইকো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের জুলাইয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটে (আইসিএসআইডি-ইকসিড) দুটি মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার দুটি মামলাই খারিজ করে দেয় ইকসিড।
 
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর বাংলানিউজকে নাইকোর মামলা খারিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরো জানান, এখন বাংলাদেশের আদালত যে রায় দেবে, সে রায়ই কার্যকর হবে। ইকসিডের কাছে তারা কোনো অভিযোগ দিতে পারবে না।
 
এদিকে, পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, টেংরাটিলা দুর্ঘটনার জন্য নাইকোর কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েও পাওয়া যায়নি। উল্টো নাইকো আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। 
 
ছাতক গ্যাসফিল্ডের টেংরাটিলায় অনুসন্ধান কূপ খননের সময় ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফায় বিস্ফোরণ ঘটায় নাইকো। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যাওয়াসহ ক্ষেত্রটি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
 
ক্ষতি হয়, গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশের পরিবেশেরও। দুটি বিস্ফোরণে গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, তার বিপরীতে বাংলাদেশ সরকার নাইকোর কাছে সাত হাজার চারশ ৬০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে। কিন্তু, নাইকো বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি। 
 
২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি পরিবেশবাদী সংগঠন ঢাকার উচ্চ আদালতে নাইকোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যৌথ চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিপূরণ দাবিতে নাইকোর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। 
 
এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বাংলাদেশ সরকারকে ক্ষতিপূরণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত নাইকো কর্তৃক ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা গ্যাসের মূল্য পরিশোধ বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেন। এরপর পেট্রোবাংলা নাইকো কর্তৃক ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত গ্যাসের দাম বাবদ পাওনা ২০০ কোটি (সাড়ে ৩ কোটি ডলার) টাকা পরিশোধে বিরত থাকে। 
 
এরপর নাইকো ফেনী গ্যাস ক্ষেত্রের পাওনা দাবি করে হাইকোর্টে যায়। কিন্তু, হাইকোর্ট আগের রায়ই বহাল রাখেন। পরবর্তীতে নাইকো ইকসিডে দুটি মামলা দায়ের করে।
 
নাইকোর মামলাগুলো হচ্ছে- গ্যাসের বকেয়া বিল আদায়সংক্রান্ত (আরবি/১০/১৮) মামলা। অন্যটি টেংরাটিলা বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণের মামলা (আরবি/১০/১১)। 
 
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান জানান, “নাইকোর ক্ষতি করেছে সাতশ ৪৬ কোটি টাকা। এই টাকা সুদসহ আদায় করতে চায় বাংলাদেশ। আমরা ন্যায় বিচার পাবো বলেও বিশ্বাস করি।’
 
পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন জানান, নাইকো হেরে যাওয়ার খবরটি বাংলাদেশের জন্য খুবই খুশির খবর। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ জোরালো করা দরকার।
 
নাইকো নিয়ে যত ঘটনা
২০০৫ সালে নাইকোর গাড়ি কেলেঙ্কারির ঘটনা এদেশের পত্রিকার মাধ্যমে ফাঁস হলেও সে সময় নাইকো অভিযোগটি স্বীকার করেনি। তৎকালীন জোট সরকার এ অভিযোগের কারণে প্রতিমন্ত্রী মোশাররফকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। 

সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ এড়াতে ঘুষ হিসেবে বিএনপির সাবেক ওই প্রতিমন্ত্রীকে একটি দামি গাড়ি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়। 
 
মোশাররফ হোসেনকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও নিজ দেশের আদালতে ফেঁসে যায় নাইকো। ২০১১ সালে নিজের দেশের আলবার্টা প্রদেশের রাজধানী ক্যালগেরির আদালত নাইকোর ৯৫ লাখ ডলার জরিমানা করেন। সে সঙ্গে নাইকোর আগামী তিন বছরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখার আদেশ দেন আদালত। 
 
এদিকে ফেনী ও সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় নাইকোকে অপারেটর নিয়োগ করার ঘটনা নিয়ে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এ দেশের আদালতে দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

এর একটি মামলার আসামি করা হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, বর্তমান জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে।

অন্য মামলায় আসামি করা হয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ কয়েকজনকে। 
 
এ ছাড়া উভয় মামলাতেই আসামি হন, নাইকোর তখনকার বাংলাদেশ প্রধান ও বর্তমান জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর ভাগ্নে কাশেম শরীফ।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫২ ঘণ্টা, আগস্ট ২০, ২০১৩
ইএস/এবি/জেএম/এমজেডআর