খাদ্য উত্পাদন বেড়ে যাওয়ায় কমেছে আমদানি ব্যয়

এক অর্থবছরের ব্যবধানে রফতানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ। পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগ চাহিদা না থাকায় এবং খাদ্য উত্পাদন বেড়ে যাওয়ায় কমেছে আমদানি ব্যয়। আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থবছরে এসে আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে। এছাড়া বিদ্যুত্-গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় মূলধনী পণ্যের আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, পণ্যের জাহাজীকরণ খরচসহ গত অর্থবছর মোট ৩ হাজার ৩৯৭ কোটি ডলার সমপরিমাণ আমদানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছর আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ৫৫২ কোটি ডলার। এতে আগের অর্থবছরের তুলনায় আমদানি কম হয়েছে ১৫৫ কোটি ডলার, যা ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর ২০১১-১২ অর্থবছরের আমদানি ছিল তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৫২ শতাংশের বেশি। এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৬ কোটি ডলার সমপরিমাণ পণ্য আমদানি হয়েছিল। এই পরিমাণ ছিল তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। ওই অর্থবছরই দেশে আমদানি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল সবচেয়ে বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি ব্যয় কমা, অন্যদিকে রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে। চলতি সপ্তাহে রিজার্ভ ১৬শ’ কোটি ডলারের ওপরে গিয়ে ঠেকেছে, যা সাড়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান। এই পরিমাণের রিজার্ভ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে এত রিজার্ভ প্রয়োজন রয়েছে কি না সে বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানির পুরো তথ্য পাওয়া না গেলেও ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, গত অর্থবছর খাদ্য আমদানির ঋণপত্র নিষ্পত্তি সবচেয়ে কমেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় চাল ও গমের ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে থাকা ক্যাপিটাল মেশিনারি নিষ্পত্তি কম হয়েছে ১৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, প্রাথমিক খাদ্য নিষ্পত্তি কমেছে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ, শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামাল নিষ্পত্তি কমেছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ, পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্য ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ, শিল্পে ব্যবহূত অন্যান্য মেশিনারি নিষ্পত্তি কমেছে ৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্যের নিষ্পত্তি কম হয়েছে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।