বাংলাদেশের ‘সাদাসোনা’ ১৯ দেশে : বেড়েছে বাগদা চিংড়ি রপ্তানি

দক্ষিণ জনপদে বাগদা চিংড়ি রপ্তানি-বাণিজ্যের প্রসার বেড়েছে। চলতি বছর খুলনা অঞ্চলের বাগদা চিংড়ি ১৯টি দেশে রপ্তানি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে। প্রথম ৭ মাসে খুলনা অঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের মাধ্যমে ৮৬০ কোটি টাকার চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চিংড়ির খামারে রোগ বালাই দেখা দেয়নি।  যেকারণে মৌসুমটি ছিল চিংড়িচাষিদের জন্য সুসময়।  বৃহত্তর খুলনার ১১টি উপজেলায় বাগদা চিংড়ি চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা, তালা, আশাশুনি, খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, কয়রা, বাগেরহাটের রামপাল ও মংলা। 
ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাগদা চিংড়ির মৌসুম। এ মৌসুমে রোগবালাই দেখা না দিলেও পোনার সংকটজনিত কারণে উত্পাদন কম হয়েছে। 
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্র জানায়, জানুয়ারিতে ৯৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ২২ লাখ কেজি, ফেব্রুয়ারিতে ৯৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের ১৩ লাখ ৮০ হাজার কেজি, মার্চে ১শ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ লাখ কেজি, এপ্রিলে ১২৪ কোটি টাকা মূল্যের ১৯ লাখ কেজি, মে-তে ২১৬ কোটি টাকা মূল্যের ৩১ লাখ কেজি এবং জুনে ২২২ কোটি টাকা মূল্যের ৩৩ লাখ কেজি চিংড়ি রপ্তানি হয়। যে সব দেশে চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে সেগুলো হচ্ছে জাপান, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, চীন, ইতালি, মারিশাস, ইউএই, পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া, সাইপ্রাস ও ডেমোনিক্সন রিপাবলিক। 
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো খুলনার পরিচালক মনোরঞ্জন বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে রপ্তানি বেড়েছে। মোট রপ্তানির ৬০ শতাংশ ওই দুটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। হিমায়িত খাদ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু অপর এক গণমাধ্যমকে বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে সর্বোচ্চ পরিমাণ রপ্তানি আয় হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। হিমায়িত খাদ্য এখন রাশিয়ায়ও রপ্তানি হচ্ছে। হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিউ ফুডসের মার্কেটিং কর্মকর্তা শরিফুর রহমান জানান, গত মে-জুনে এই প্রতিষ্ঠান ১৭ কোটি টাকা মূল্যের ৩শ টন হিমায়িত চিংড়ি নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়ায় রপ্তানি করেছে। এ বছরের বাগদা চিংড়ির মৌসুম প্রায় শেষ। সে কারণে চাহিদা অনুযায়ী চিংড়ি পাচ্ছে না। মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠান ৫শ টন চিংড়ি কিনেছে। স্থানীয় বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি চিংড়ি ৭শ টাকা বিক্রি হচ্ছে।