সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

সম্প্রসারিত হচ্ছে একটি বাড়ি একটি খামার কার্যক্রম

যাযাদি রিপোর্ট সারাদেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কার্যক্রম। বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। একই সঙ্গে দ্বিগুণের বেশি করা হয়েছে প্রকল্পের ব্যয়। ব্যয় বাড়ছে মূল ব্যয়ের প্রায় ১১২ শতাংশ। ফলে দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। নতুন করে ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা।
এসব পরিবর্তন এনে প্রকল্পটির দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রকল্পটিসহ মোট সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান আজকের সভায় মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এতে প্রায় চার হাজার ৫৩২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ব্যয়ের মধ্যে তিন হাজার ৯২৮ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং অবশিষ্ট ৬০৪ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে মেটানো হবে। অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামীণ সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কর্মকা-ের স্বতন্ত্র কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে গড়ে তোলা এবং ২০১৫ সালের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখাই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পটি প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০০৯ থেকে জুন ২০১৪ মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়। পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্পের মেয়াদকাল ১ বছর কমিয়ে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করে এতে ১ম সংশোধনী আনা হয়। ১ম সংশোধিত প্রকল্পটির কার্যক্রম দেশের মোট ১৯৩২টি ইউনিয়নে চলমান আছে। প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় এর কার্যক্রম দেশের সব ইউনিয়নে (৪৫০৩টি ইউনিয়ন) বিস্তৃত হবে। মেয়াদ বেড়েছে জুন ২০১৬ পর্যন্ত।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক জরিপের ভিত্তিতে গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন সৃষ্টি করে সুফল ভোগীদের দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ঋণ, অনুদান ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দরিদ্রদের মাঝে দুগ্ধবতী গাভী, মৎস্য, হাঁস-মুরগি ও ফসলের বীজ বিতরণ অব্যাহত আছে। প্রকল্প সদর দপ্তর, জেলা, উপজেলা এবং গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন দফতরে ইন্টারনেট সংযোগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা তৈরির লক্ষ্যে উপজেলা ও ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলেছে। এছাড়া, গ্রাম উন্নয়ন সংগঠনের মাধ্যমে অনুপস্থিত ভূমির মলিকদের ভূমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হলো : ‘মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন’ প্রকল্প (৫২ কোটি টাকা-জিওবি); ‘নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন’ প্রকল্প (৪৩ কোটি টাকা-জিওবি); ‘দেশের বিদ্যমান জেলা স্টেডিয়ামগুলোর সংস্কার-উন্নয়ন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প (১১০ কোটি টাকা-জিওবি); ‘বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য কৃষি সহায়ক’ প্রকল্প ( মোট ব্যয় ১৪০ কোটি টাকা, জিওবি-২৫ কোটি এবং প্রকল্প সাহায্য ১১৫ কোটি); ‘ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে সেচ কর্মসূচি’ প্রকল্প (৪১ কোটি টাকা-জিওবি); বস্নু গোল্ড প্রোগ্রাম ‘ইন্ট্রিগ্রেটেড সাসটেইনেবল ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট বাই ইমপ্রুভিং দি ওয়াটার অ্যান্ড প্রোডাকটিভ সেক্টর সিলেকটেড ফোল্ডারস’ প্রকল্প (৫৬৪ কোটি টাকা, জিওবি-৭৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৪৮৯ কোটি টাকা); ‘কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর ওপর ৯৫০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ’ প্রকল্প (২০৭ কোটি টাকা-জিওবি); ‘সেচের গভীর নলকূপ হতে পাইপের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ’ প্রকল্প (১১০ কোটি টাকা-জিওবি) এবং ‘রিপ্লেসমেন্ট অব ওল্ড মেশিনারি অ্যান্ড এডিশান অব মেশিনারি ফর বিট সুগার প্রোডাকশন অ্যাট ঠাকুরগাঁও সুগার মিল প্রকল্প (১০২ কোটি টাকা-জিওবি)।