ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা ও ইয়েন

মসিউর আহমেদ মাসুম : ইউএস ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকা ও জাপানি মুদ্রা ইয়েন। তবে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের অধিকাংশ দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়া অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহ শেষে গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থায় এ চিত্র ফুটে উঠেছে।

এদিকে ক্রমাগত বাড়ছে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার দর। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ডলারের বিপরীতে টাকার রেকর্ড দর কমলেও গত বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকা দর হয় ৭৭ টাকা ১০ পয়সা। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ৮৫ টাকা হয়েছিল। কিন্তু এরপরই টাকার মান আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। আর দেড় বছরে বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাড়ায় গত কযেকমাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নমুখী হয়েছে। কারণ ডলারের দাম কমে যাওয়ায় আগের চেয়ে কম টাকা পাওয়া যায়। ফলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছুটা নিরুত্সাহিত বোধ করে। একই কারণে রফতানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে বাজার থেকে ডলার কিনছে। ডলারের দর ধরে রাখতে ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাজার থেকে ৫১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন অর্থবছরের শুরুতেও ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে ব্যাংকটি।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাড়লেও সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মুদ্রা রুপির। গত কয়েকমাসে রেকর্ড পতনের হাত থেকে রুপিকে বাঁচাতে ভারতের কেন্দ ীয় ব্যাংককে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। চলতি মাসের ৫ তারিখ ডলারের বিপরীতে রুপির পতন ঠেকাতে বাজারে ডলার বিক্রি শুরু করে ব্যাংকটি। বাজারের ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে এদিন ডলারের বিপরীতে রুপির দাম দাঁড়ায় ৬০ দশমিক ২২। তবে গত শুক্রবার ভারতের মুদ্রা রুপির দর শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পড়েছে।

এদিকে জাপানের পার্লামেন্ট ডায়েটের উচ্চ কক্ষের নির্বাচনের খবরের প্রভাবে ডলারের বিপরীতে দর বেড়েছে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের। গত শুক্রবার প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১০০ দশমিক ১১ ইয়েনে। এর আগে প্রতি ডলার ক্রয় করতে ১০০ দশমিক ৫০ ইয়েন ব্যয় করতে হতো। গতকাল রোববার জাপানের উচ্চকক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শিনজো এ্যাবে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বড় ধরনের ব্যয় করতে প্রস্তুত তার সরকার। এ খবরেই ইয়েনের দাম বেড়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকা ও জাপানি মুদ্রা ইয়েন শক্তিশালী হলেও এশিয়ার প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলার শক্তিশালীই ছিল গত শুক্রবার। এদিন ভারতের মুদ্রা রুপির দর শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পড়েছে। প্রতি ডলার ক্রয় করতে ব্যয় বেড়েছে রুপির। আগের দিনের ৫৯ দশমিক ৭৩ থেকে এদিন ৫৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ হয়েছে ডলারের দাম। এক ডলারের জন্য ১ দশমিক ২৬৬৭ সিঙ্গাপুরি ডলার ব্যয় করলেও এখন ব্যয় করতে হচ্ছে ১ দশমিক ২৬৬৯ সিঙ্গাপুরি ডলার। থাইওয়ানি ডলারের দাম পড়ে ২৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে ২৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ হয়েছে। একইভাবে প্রতি ডলারের বিপরীতে দাম পড়া অন্যান্য মুদ্রা যেমন, থাই বাথ ৩১ দশমিক ০৮ থেকে ৩১ দশমিক ১১, অস্ট্রেলিয়া ডলার ৯১ দশমিক ৬৬ থেকে ৯১ দশমিক ৮৪ শতাংশ হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রধান বেন বারনানকি সেদেশের মুদ্রা বাজারে ব্যাংকগুলোর প্রণোদনা অব্যাহত রাখার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী মার্কিন মুদ্রা ডলারের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।