তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশই সেরা

 
 
রয়টার্সের প্রতিবেদন
তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশই সেরা 
কালের কণ্ঠ ডেস্ক

তৈরি পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও জীবনমান নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ থাকলেও তৈরি পোশাকে বাংলাদেশই সেরা। বিশ্বের কোথাও বাংলাদেশের চেয়ে সস্তায় তৈরি পোশাক পাওয়া যায় না। তাই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নিতে বিদেশি ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
গত ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১০০-এর বেশি শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনার পর পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে আলোচনার ঝড় ওঠে, তাতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এসব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করেছে। এরপরও বিশ্বের অন্য যেকোনো জায়গার তুলনায় বাংলাদেশেই সবচেয়ে কম দামে তৈরি পোশাক পাওয়ার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের নজর এ দেশের দিকেই। এখানে সবচেয়ে সস্তায় পোশাক পাওয়া যায় বলেই এ মুহূর্তে ক্রেতাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা নেই। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও আনুষঙ্গিক খরচ কম বলে বাংলাদেশে কম খরচে পোশাক উৎপাদন করা সম্ভব।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাভারের ঘটনার পর ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পোশাক ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন, এবার ক্রেতারা তাঁদের দিকেই ঝুঁকবেন। কিন্তু চীন ছাড়া ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামসহ এশিয়ার শীর্ষ পোশাক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে পাওয়া যায় ভিন্ন চিত্র। তাঁরা বলেন, বিদেশি ক্রেতারা এখনো তাঁদের কাছে আসেননি। দামের দিকটা দেখলে বাংলাদেশই সেরা।
ভারতভিত্তিক একটি তৈরি পোশাক আমদানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অরবিন্দ সিংঘাল বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের শূন্য থেকে নায়ক বনে যাওয়ার পেছনের কারণ হচ্ছে, বিশ্বের আর কোনো দেশে এর চেয়ে সস্তায় শ্রম পাওয়া যায় না। অন্যান্য খরচও বাংলাদেশে কম।’
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অরবিন্দ সিংঘাল বলেন, ‘কোনো ক্রেতারই বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে গরজ নেই। এই মুহূর্তে তৈরি পোশাকে বাংলাদেশের বিকল্পও নেই। শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করালেও দাম কম হওয়ায় পশ্চিমা ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের কদর সবচেয়ে বেশি।’
রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এগিয়ে এসেছে এইচ অ্যান্ড এম ও ওয়ালমার্টের মতো ইউরোপ ও আমেরিকার খ্যাতনামা অনেক পোশাক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।
এইচ অ্যান্ড এমের মুখপাত্র এলিন হ্যালেরবি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনা কমাচ্ছি না। আমাদের পোশাক সরবরাহকারীদের সঙ্গে আমরা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছি।’
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশে এ খাতে ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করছে, যাদের অধিকাংশই নারী।
বিশ্বে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা ইনিডটেঙ্ এবং এইচ অ্যান্ড এম ছাড়াও ওয়াল-মার্ট, গ্যাপ ও জেসি পেনির মতো কম্পানি বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়ার শীর্ষ পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনায় গিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে যায়। কারণ ক্রেতাদের কাছে তাদের দেওয়া দর বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি থাকে।
ভিয়েতনামের একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক নুয়েন হু তুয়ান বলেন, বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে খুব কম খরচে পোশাক উৎপাদন করা হয়। সেখানে ভিয়েতনামের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ কম খরচ হয়।
দামের কারণে পিছিয়ে পড়েন শ্রীলঙ্কার পোশাক প্রস্তুতকারীরাও। তাঁরা মনে করেন, বাংলাদেশের বদলে তাঁদের কাছে যদি কোনো ক্রেতা আসেন, তবে তা হবে স্বল্প সময়ের জন্য। এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কার জয়েন্ট অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশন ফোরামের মহাসচিব তুলি কোড়াই বলেন, ‘দিন শেষে দামই সবচেয়ে বড় কথা।’

 
 
সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন, উপদেষ্টা সম্পাদক : অমিত হাবিব, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com