দুবাইয়ে বাংলাদেশি চালকের সততা

যাত্রীর ফেলে যাওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান অলঙ্কার ফেরত দিয়ে অনন্য নজির গড়েছেন দুবাইয়ে ক্যাবচালক বাংলাদেশি আবদুল হালিম (৩১)। এ জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে ‘দুবাই এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে। আবদুল হালিম জানান, এক যাত্রী তার ট্যাক্সিতে ২ লাখ নগদ দিরহাম এবং ১০ লাখ দিরহাম মূল্যমানের অলঙ্কার ফেলে যান (সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি ৫২ লাখ টাকা)। তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছিল, এগুলো কারো কষ্টার্জিত অর্থ ও অলঙ্কার। এতে আমার কোনো অধিকার নেই। খবর বাংলানিউজ২৪ডটকমের।
জুমিরা লেক টাওয়ারস (জেএলটি) এলাকার আলমাস টাওয়ার থেকে দু’যাত্রী উঠেন তার ট্যাক্সিতে। এদের মধ্যে একজন মিসরের ব্যবসায়ী, তিনিই ট্যাক্সি ক্যাবে ব্যাগ দুটি ফেলে যান। হালিম বলেন, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে আমি আমার ডিউটি শেষ করে ক্যাবটি পরিষ্কার শুরু করি। এ সময় আমি ট্যাক্সির ভেতর ব্যাগ দুটি দেখতে পেয়ে কৌতূহলবশত খুলি এবং এগুলো দেখতে পাই।
হালিম গত দু’বছর ধরে দুবাই রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষের (আরটিএ) হয়ে কাজ করছেন। মূল্যবান এ জিনিসগুলো পাওয়ার পর হালিম দ্রুত নাইফ পুলিশ স্টেশনে চলে যান এবং সেখানে হস্তান্তর করেন।
হালিম বলেন, দুবাইয়ে ট্যাক্সির নিয়ম হলো যদি আপনি গাড়িতে মূল্যবান কিছু পান তবে তা পার্শ্ববর্তী পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করতে হবে।
জিনিসগুলো হারানোর পর ওই যাত্রী দ্রুত পুলিশ স্টেশনে যান এবং তার হারানো জিনিসগুলোর বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। হারানো অর্থ ও অলঙ্কার ফিরে পয়ে যাত্রী খুশি হন। এতে হালিমের মন আনন্দে ভরে যায়।
হালিমের এ সততার কৃতিত্ব হিসেবে তাকে সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে এবং দুবাই ট্যাক্সি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন। এ ছাড়া দুবাই রোড ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষের (আরটিএ) চেয়ারম্যান মাত্তার আল তায়েরও তাকে অর্থ সহায়তা দেন। দুবাইয়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারাও তাকে পুরস্কৃত করেছেন। কৃতিত্বস্বরূপ হালিমকে ‘দুবাই এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়েছে।
দুই সন্তানের বাবা হালিম ট্যাক্সি ড্রাইভারদের জন্য একটি বার্তা দিয়েছেন, ‘সৎ হোন, তাহলে সব ভালো আপনার সঙ্গে থাকবে। আমাকে দেখুন, ব্যাগগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি, তাই আমি পুরস্কৃত হয়েছি।’
দুবাই ট্যাক্সি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মারওয়ান ওসমান আবদুল কাদের বলেন, ‘আমরা তার জন্য গর্বিত।’

– See more at: