‘১৭ দিন পানি খেয়ে বেঁচেছিলাম’

‘১৭ দিন পানি খেয়ে বেঁচেছিলাম’


জাহাঙ্গীর সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

 

ঢাকা: “১৭ দিন পানি খেয়ে বেঁচেছিলাম। উদ্ধারকর্মীরা ওপর থেকে নানা সময়ে বোতলজাত পানি পাঠান। আমি সেখান থেকে দুই বোতল পানি সংরক্ষণ করে রাখি। সেই বোতলের পানি আমি প্রতিদিন অল্প অল্প করে খেয়ে জীবন বাঁচাই।”

ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় কথাগুলো বলছিলেন সাভারের রানা প্লাজার ভয়াবহ ভবন ধসের ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার হওয়া নারী পোশাক শ্রমিক রেশমা। 

রেশমা বর্তমানে সাভারের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছেন। 

আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেশমা বাংলানিউজকে বলেন, “আমি ১৭ দিন পানি খেয়ে বেঁচেছিলাম। ভবন ধসের পরপরই আমি ভবনের নিচে আটকা পড়ি। পরে বাঁচার জন্য ভবনে অবস্থিত নামাজ ঘরে চলে যাই। উদ্ধারকর্মীরা ওপর থেকে নানা সময়ে বোতলজাত পানি পাঠান। আমি সেখান থেকে দুই বোতল পানি সংরক্ষণ করে রাখি। সেই বোতলের পানি আমি প্রতিদিন অল্প অল্প করে খেয়ে জীবন বাঁচাই।”

রেশমা আরও বলেন, “অন্যদের ফেলে যাওয়া খাবারও খেতাম। তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ফুটো থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়তো। এসব খেয়েই বেঁচেছিলাম। এক সময় খাবার শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখন একটু একটু করে পানি খেয়ে বেঁচেছিলাম। নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম। শেষের দুই দিন পানিও শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুই খাওয়া হয়নি। 

ভবন ধসের ৪০৮ ঘণ্টা পর ধসে যাওয়া রানা প্লাজা থেকে উদ্ধার রেশমা আরো বলেন, “উদ্ধারকর্মীরা যখন উদ্ধার কাজ চালাচ্ছিলেন, তখন আমি বড় বড় যন্ত্রের শব্দ শুনতে পেতাম। শব্দ শুনে আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ হয়তো আমাকে এখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবেন।”

সাভার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলছে। তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। সাবধানে খাবার দেওয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে।

রেশমার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে তুলসিবাড়ি গ্রামে। তারা তিন বোন, দুই ভাই। সবার ছোট রেশমা। সাত মাস আগে স্বামী রাজ্জাক তাকে ছেড়ে চলে যান।

রানা প্লাজার তৃতীয় তলায় নিউ ওয়েভ বটমস নামের কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন রেশমা। এখানে তিনি দেড় বছর ধরে কাজ করে আসছেন।

শুক্রবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে রেশমাকে জীবিত সন্ধান পাওয়া যায়। রানা প্লাজার বেসমেন্টে নামাজ পড়ার স্থানে আটকে ছিলেন ১৭ দিন। এরপর ৪টা ২৫ মিনিটে তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রথমে একটি জিআই পাইপ নড়ে ওঠার বিষয়টি একজনের চোখে পড়ে। এরপর কাছে গেলে ফুটো দিয়ে রেশমার কণ্ঠস্বর বলেন। এরপর ৪৫ মিনিটের উদ্ধার অভিযানে তাকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।