বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আবিষ্কার ইবি ছাত্র শাহিনের

 
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আবিষ্কার ইবি ছাত্র শাহিনের
প্রতিনিধি, ইবি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হোসেন (শাহীন) বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সম্পূর্ণ অটোমেটিক পদ্ধতিতে কোন সুইচ ছাড়াই যন্ত্র উদ্ভাবন করতে সক্ষত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিসিতে অবস্থিত প্রেসকর্নারে সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি প্রদর্শনরে মাধ্যমে শাহীন তার যন্ত্রের ব্যবহার পদ্ধতি ও সুবিধাবলি উপস্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শাহীন জানান, আবিষ্কৃত এই পদ্ধতির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, টেলিভিশনসহ সর্বপ্রকার বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু ও বন্ধ হয়ে যাবে। এ পদ্ধতি মূলত সেন্সরের মাধ্যমে কাজ করে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো কোন কক্ষের ভেতরে মানুষ প্রবেশ করলে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, টেলিভিশনসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল হবে আবার কক্ষ ত্যাগ করলে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে কার্যকরীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। অন্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধী, এই জাতীয় লোকেরা দৈনন্দিন কাজে অনেক সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সিকিউরিটি সিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে। মাত্র ৬৬৫ টাকা খরচ করে এই পদ্ধতিতে সুবিধা ভোগ কারা যাবে। তবে এটি ব্যবহার করতে নির্দিষ্ট অবকাঠামো বিশিষ্ট কক্ষ, অফিস বা বাসা হতে হবে।

ওই শিক্ষার্থী আরও জানান, এই পদ্ধতির মাধ্যমে আবিষ্কৃত যন্ত্রটি কোন ঘরের মধ্যে মানুষ বা অন্য কোন প্রাণী ঢুকলে প্রথমে তাকে চিহ্নিত করবে ও গণনা করবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের বিভিন্ন স্থানে ( যেমন : পড়ার টেবিল, ফ্যান, বেডরুম, বাথরুম) উপস্থিতির ওপরে ভিত্তি করে লাইট, ফ্যান, এসি ইত্যাদি চালু ও বন্ধ করবে। সিকিউরিটি সিস্টেম হিসেবে গভীর রাতে প্রয়োজনীয় এলার্ম বাজাতে পারবে। একটি ঘরের মধ্যে কয়জন লোক আছে এবং আদৌ কেউ আছে কি-না তা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করে ডিসপ্লের মাধ্যমে দেখাতে সক্ষম । 

অটোমেশন সিস্টেম আবিষ্কার করতে যে উপকরণগুলো ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো, পিক মাইক্রোকন্ট্রোলার ১৬ঋ৮৪অ, ওঈ-খগ৩৫৮, খগ-৭৮০৫, ট্রান্সফার, রিচার্জেবল ব্যাটারি, ওজ লেড, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি। 

ফলিত পদার্থ, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খালিদ হাসান জুয়েলের তত্ত্বাবধায়নে দীর্ঘ নয় মাস গবেষণা করে এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বলে শাহিন সাংবাদিকদের জানান।

শিক্ষক খালিদ হাসান জুয়েল ও শাহিন জানান, ‘সরকার কিংবা অন্য কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তারা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এই অটোমেশন পদ্ধতির মাধ্যমে অতিদ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করার স্বপ্ন দেখেন। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি একটি দৃঢ় পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করেন তারা।’ বাংলাদেশে স্বল্পমূল্যের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী অটোমেশন পদ্ধতি এই প্রথম।

শাহাদাত হোসেন (শাহীন) শেরপুর জেলার মো. দেলোয়ার হোসেনের পুত্র। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন একজন সরকারি চাকরিজীবী। সে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে সবার দোয়া প্রার্থী।