জন্মগত শিশু হৃদরোগীর চিকিৎসায় সাফল্য দাবি : জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট

জন্মগত শিশু হৃদরোগীর চিকিৎসায় সাফল্য দাবি
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট
 
নিখিল মানখিন ॥ জন্মগত শিশু হৃদরোগীর অপারেশনে ব্যাপক সফলতা দাবি করেছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। প্রতি সপ্তাহে শিশু ইউনিটে ১০ থেকে ১২টি জন্মগত হৃদরোগীর অপারেশন হচ্ছে। প্রাইভেট হাসপাতালের তুলনায় এখানে এ রোগের চিকিৎসাব্যয় খুবই কম বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় দরিদ্র রোগীদের নামমাত্র খরচে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়ে থাকে। 
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল সাফী মজুমদার জনকণ্ঠকে বলেন, দেশে প্রতিদিন জন্মগত হৃদরোগসহ হৃদরোগে আক্রান্ত অন্য শিশুদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সচেতনতার অভাব, সঠিক সময়ে রোগ ধরা না পড়া, অভিভাবকগনের চিকিৎসায় অনীহাসহ নানা কারণে শিশু হৃদরোগীরা শারীরিক জটিলতায় মৃত্যুবরণ করছে। মাতা-পিতার সচেতনতা ও সময়োপযোগী চিকিৎসায় শিশু হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ জন্মগত হৃদরোগ। পৃথিবীর অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশে শিশু হৃদরোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। কিন্তু দেশে এখন পর্যন্ত শিশু হৃদরোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। বয়স্ক হৃদরোগীদের জন্য দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার বিষয়টি এখনও অবহেলিত হয়ে আছে। সঙ্কটাপন্ন ও জটিল শিশু হৃদরোগীকে অতি জরুরী চিকিৎসাসেবা দেয়ার ব্যবস্থাও দেশে নিতান্ত অপ্রতুল। অথচ দেশে ১৮ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সের শিশুর সংখ্যা হবে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ ভাগ।
গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের ১ মাসের মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ শিশু মৃত্যুবরণ করে জন্মগত হৃদরোগের কারণে। জন্মগত ত্রুটির শতকরা ৩০ ভাগই জন্মগত হৃদরোগ যা ক্রোমোজমাল ত্রুটির চেয়ে ৬ গুণ এবং নিউরালটিউব ক্রটির চেয়ে ৪ গুণ বেশি। প্রতি ১ হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে ৮ জন জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এদের মধ্যে প্রতি ১ হাজার জনে ২ থেকে ৩ জনের রোগ লক্ষণ, জন্মের প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই নানাবিধ উপসর্গ প্রকাশ পায়। শিশু মায়ের বুকের দুধ টেনে খেতে অসুবিধা ও অল্পতেই হাঁপিয়ে যায়। তাছাড়া ঘনঘন ঠা-া-কাশি ও শ্বাসকষ্ট, হাত পায়ের আঙ্গুল ও ঠোঁটে নীলাভ ভাব, ওজন ও শারীরিক বৃদ্ধি কম হওয়া শিশু হৃদরোগের উপসর্গ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মগত শিশু হৃদরোগের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ জানা যায়নি। তবে গর্ভাবস্থায় ও গর্ভ পরিকল্পনাকালে বিভিন্ন ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য, রেডিয়েশনের সংস্পর্শ, মায়ের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভাবস্থায় মায়ের রুবেলা সংক্রমণ প্রভৃতির সঙ্গে শিশু হৃদরোগের যোগসূত্র থাকতে পারে। গর্ভধারণের পূর্বেই ডায়বেটিস, খিঁচুনি জাতীয় রোগে আক্রান্ত মায়েদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তাছাড়া গর্ভাবস্থায় যথাযথ পরিচর্যা, রাসায়নিক পদার্থ ও তেজস্ক্রিয়তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। গর্ভ পূর্ববর্তী সময়ে রুবেলা সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রত্যেক মহিলার জন্য এমএমআর টিকা নিশ্চিত করা হলে গর্ভস্থ শিশুর রুবেলা সংক্রমণ ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হৃদরোগসহ অন্যান্য জটিলতা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। 
অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল সাফী মজুমদার আরও জানান, অপেক্ষাকৃত কম খরচে রোগ নির্ণয় ও সুচিকিৎসা পাওয়ার আশায় প্রতিদিন রোগীর ভিড় বাড়ছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে এই হাসপাতালে। হৃদরোগীদের জন্য সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও মাত্রাতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের অবস্থা বেসামাল। হাসপাতালের বাইরে সরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসমূহে হৃদরোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা করোনারি কেয়ার ইউনিট চালু করা হয়। কিন্তু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া অন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসমূহে জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে ইউনিটগুলো চালু হয়নি।