বাংলাদেশের শ্রীলংকা জয়

বৃষ্টি বিঘি্নত তৃতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলংকাকে ডাকওয়ার্থ/লুইস পদ্ধতিতে ৩ উইকেটে হারিয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ৩০২ রান করে শ্রীলংকা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৩ ওভার ৪ বলে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৭৮ রান করার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে অতিথিদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭ ওভারে ১৮৩ রান, অর্থাৎ ৮০ বলে আরো ১০৫ রান। ২৬ ওভারে ৭ উইকেটে সেই লক্ষ্যে পেঁৗছে যায় বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে এনামুল হকের ৭৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেয়। ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নেমে সচিত্র সেনানায়েকের বলে এলবিডবিস্নউর ফাঁদে পড়েন আশরাফুল।
বৃষ্টির পর খেলা শুরু হওয়ায় আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের বলে দীনেশ চান্দিমালের ক্যাচে পরিণত হন এনামুল। ১৮ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ২৬ রান করা জহুরুল ইসলামকে ফেরানোর কৃতিত্বও তার।
দলীয় ১১৯ রানে জহুরুলের বিদায়ের পর ঝুঁকিপূর্ণ রান নিতে গিয়ে রানআউট হন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এরপর সেনানায়েকের বলে এলবিডবিস্নউর ফাঁদে পড়েন সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার বিদায়ে অস্বস্তিতে পড়ে অতিথিরা।
দলীয় ১৬৬ রানে মমিনুল হক ও জিয়াউর রহমানকে আউট করে দলের বিপদ আরো বাড়ান লাসিথ মালিঙ্গা। বৃষ্টি নামার আগেই ৫ ওভার বল করায় ১ ওভার বাকি ছিল তার।
এক সময় ভীষণ শঙ্কায় পড়ে গেলেও ৬ বল হাতে রেখে শ্রীলংকার মাটিতে প্রথম নাটকীয় জয় এনে দেয়ার কৃতিত্ব নাসিরের। ২৭ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে কুশাল পেরেরার সঙ্গে তিলকারত্নে দিলশানের ১১৬ রানের উদ্বোধনী জুটি শ্রীলংকাকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। নিজের প্রথম অর্ধশতকে পেঁৗছানো কুশালকে (৫৬) পয়েন্টে নাসিরের ক্যাচে পরিণত করে বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন মাহমুদউল্লাহ।
সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ১১ হাজার রানের মাইলফলক পেরোনো কুমার সাঙ্গাকারার সঙ্গে দিলশানের ৮৭ রানের আরেকটি চমৎকার জুটিতে ১ উইকেটে ২০৩ রানের ভালো অবস্থানে পেঁৗছে দেয় দলকে।
আবদুর রাজ্জাকের বলে মিডউইকেটে এনামুলের হাতে ধরা পড়ে সাঙ্গাকারা (৪৮) বিদায় নিলে ছোটখাটো ধস নামে স্বাগতিকদের ইনিংসে। ৩৫ রান যোগ করতে আরো ৪ উইকেট হারিয়ে তাদের স্কোর পরিণত হয় ২৩৮/৬-এ।
এ সময় ‘প্রমোশন’ পেয়ে ওপরে ওঠা থিসেরা পেরেরা ও ম্যাথিউসকে ফিরিয়ে দেন রাজ্জাক। জীবন মেন্ডিসকে ফিরিয়ে দেয়া ওভারটি মেডেন নেন অফস্পিনার সোহাগ গাজী। চান্দিমালকে বোল্ড করে নিজের প্রথম ওয়ানডে উইকেট তুলে নেন জিয়াউর রহমান।
স্বাগতিকদের ইনিংস কক্ষপথে ফেরান সিরিজে দ্বিতীয় শতকে পেঁৗছানো দিলশান। দলের রান আড়াইশ পেরোনোর পর শাহাদাত হোসেনের বলে মিডউইকেটে নাসিরের দর্শনীয় ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ১২৫ রান করেন তিনি। দিলশানের ১২৮ বলের ইনিংসে ১২টি চার। এটি তার ১৬তম শতক, বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয়।
দলীয় ২৬৩ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে দিলশানের বিদায়ের পর লাহিরু থিরিমান্নের ১৫ বলে অপরাজিত ২৫ ও নুয়ান কুলাসেকারার ১১ রান দলকে পেঁৗছে দেয় ৩০০ রানে।
৪৯তম ওভারে প্রথম দুই বলে কুলাসেকারা ও সেনানায়েকেকে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান রাজ্জাক। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ২০০ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব তার। রাজ্জাকের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন লাসিথ মালিঙ্গা, শ্রীলংকার স্কোরও ৩০০ পেরোয়। ৬২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে রাজ্জাকই বাংলাদেশের সেরা বোলার।