বুধবার খুলে দেয়া হচ্ছে মিরপুর-বনানী ফ্লাইওভার

বুধবার খুলে দেয়া হচ্ছে মিরপুর-বনানী ফ্লাইওভার
০ নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই কাজ শেষ হচ্ছে 
০ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
 
স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই মিরপুর-বনানী ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হচ্ছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে এ ফ্লাইওভার নির্মাণের সময়সীমা থাকলেও চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে আগামী বুধবার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরদিকে এয়ারপোর্ট হতে বিজয় সরণি রোডের মধ্যে আরও চারটি ইউ-লুপ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 
সূত্র মতে, মিরপুর-বনানী ফ্লাইওভার চালু হলে রাজধানী ঢাকার যানজট কমবে। বৃহত্তর মিরপুরবাসী ঢাকা সেনানিবাসের মধ্য দিয়ে বাধাহীনভাবে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে বিমানবন্দর সড়কে পৌঁছাতে পারবেন। এটি ঢাকার নান্দনিক সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করবে। ফ্লাইওভার চালু হলে রাজধানীর মিরপুরের সঙ্গে এয়ারপোর্ট সড়কের দূরত্ব হবে তিন কিলোমিটার। বর্তমানে মিরপুর থেকে বিমানবন্দর রোডে যেতে হলে আগারগাঁও হয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। ফলে আট কিলোমিটার পথ কমে যাবে। 
মিরপুর-বনানী ফ্লাইওভার, সংযোগসেতু এবং রেলক্রসিংয়ের ওপর নির্মিত ওভারপাস প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত। তবে জুন মাসের আগেই প্রকল্প নির্মাণ কাজ শেষ হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন শ’ ৬০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। 
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতায় এ প্রকল্পে মিরপুরের মাটিকাটা থেকে জিয়া কলোনি পর্যন্ত এক হাজার ৭৯৩ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ৫৬১ মিটার সংযোগ সেতু। এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর বনানী রেলক্রসিংয়ের ওপর ৮০৪ মিটার দীর্ঘ ওভারপাস চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ওভারপাসের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। 
সূত্র মতে, ফ্লাইওভার ও ওভারপাস নির্মাণের ফলে সকল যানবাহন এর ওপর দিয়ে চলাচল করবে। সেক্ষেত্রে এয়ারপোর্ট রোডের উভয় পাশে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাসমূহের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ফ্লাইওভার ও ওভারপাসের নিচে অবস্থিত রাস্তা ব্যবহৃত হবে। নিচের রাস্তায় অল্পসংখ্যক যানবাহন থাকায় অতি দ্রুত রাস্তা অতিক্রম করে পূর্ব-পশ্চিমের সামরিক স্থাপনাসমূহের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। সামরিক যানবাহনের সহজ পারাপারের জন্য ওভারপাসের নিচে ইউ-টার্নের ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া সামরিক যানবাহনসমূহ ওভারপাস ও ফ্লাইওভার ব্যবহার করে পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। 
এদিকে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল এয়ারপোর্ট হতে বিজয় সরণির মধ্যবর্তী এয়ারপোর্ট রোডে নিরবচ্ছিন্ন যানবাহন চলাচলের লক্ষ্যে চারটি ইউ-লুপ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইউ-লুপ চারটি নির্মাণ করা হলে এয়ারপোর্ট রোডের যানবাহন রাইট টার্নিংয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে রোড ডিভাইডারের মধ্যে অবস্থিত গ্যাপে ইউ-টার্ন না নিয়ে ইউ-লুপ চারটি ব্যবহার করবে। সে ক্ষেত্রে রাইট টার্নিংয়ের জন্য সৃষ্ট যানজট সমস্যার সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল সম্ভব হবে। ইউ-লুপ চারটির একটি আর্মি গল্ফ ক্লাব, দু’টি নৌবাহিনীর সদরদফতর ও অপরটি মহাখালীর সেতু বিভাগ অফিসের সামনে নির্মাণ করা হবে। 
বনানী ফ্লাইওভার, সংযোগ সেতু এবং রেলক্রসিংয়ের ওপর নির্মিত ওভারপাস প্রকল্প সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করেছে। সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের অধীন ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বনানী রেলক্রসিং ওভারপাস, সংযোগ সেতু ও মিরপুর-বনানী ফ্লাইওভার চালু হলে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।