১৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন প্রথমবারের মতো ১৪শ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

এই রিজার্ভ দিয়ে অন্তত পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর আতিউর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভ ১ হাজার ৪১০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

গভর্নর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আইএমএফের দ্বিতীয় কিস্তির ঋণ বুধবার যোগ হলে রিজার্ভ আরো বাড়বে।

আইএমএফের বর্ধিত ঋণ সুবিধার দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে বুধবার রিজার্ভের যোগ হচ্ছে ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

বর্তমান রিজার্ভে সন্তোষ প্রকাশ করে গভর্নর বলেন, এটা প্রমাণ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের (রেমিটেন্স) ওপর ভর করেই রিজার্ভে রেকর্ড হয়েছে।

রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ায়ও এতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স এসেছে।

সমৃদ্ধ রিজার্ভ নিজস্ব অর্থায়ন থেকে পদ্মা সেতু নির্মাণের সাহস যোগাচ্ছে সরকারকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১ হাজার ৪২০ কোটি (১৪ দশমিক ২ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।

দেশের ইতিহাসে এক বছরে এই পরিমাণ রেমিটেন্স আগে কখনো আসেনি।

গত বছরের মতো চলতি বছরের শুরুতেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি মাসে ১৩৩ কোটি ডলার রেমিটেন্স দেশে এসেছে। আর চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ২২ দিনে এসেছে ৮৭ কোটি ডলার।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরের আট মাসে (২০১২ সালের পহেলা জুলাই থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি) ৯৬০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছে।

ছাইদুর রহমান বলেন, “গত দুই বছর ধরে প্রতি মাসে প্রবাসীরা ১০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। তাদের পাঠানো এই অর্থই দেশের অর্থনীতির ভীতকে মজবুত রেখেছে। এখন সরকার নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের যে ঘোষণা দিয়েছে তাতেও তাদের অবদান হবে সবচেয়ে বেশি।”