পান চাষ করে পীরগঞ্জে পিতা কন্যার ভাগ্য পরিবর্তন

ভোরের কাগজ : রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
অর্থ শিল্প বাণিজ্য ডেস্ক : রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের রবীউল আলমকে এক সময় অর্থের অভাবে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। তার ওপর লেখাপড়ায় প্রবল আগ্রহী কন্যা কুলসুমকে দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া করাতে না পারায় তাকে ভীষণ পীড়া দিচ্ছিল। সংসারের এ অভাব কন্যা কুলসুমকেও খুব নাড়া দেয়। বসতভিটা ছাড়া আর কোন জমিও নেই যে, চাষাবাদ করে তারা দারিদ্র্য ঘোচাবে। এক সময় পিতা ও কন্যা পরিকল্পনা করে বসতভিটার ১৯ শতক জমির কিয়দংশ চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ৮ শতক জমিতে পান চাষ করে। প্রথম বছর তাতে তেমন কোন লাভ হয়নি। পরের বছর থেকে সাফল্য আসে। কয়েক বছরের মধ্যে তাদের আর্থিক দৈন্যতা ঘুচে যায়। পরিবর্তন হয় তাদের ভাগ্যের। খবর বিএসএসের।

অভাবকে জয় করে উপজেলার চতরা ইউনিয়নের সখীপুর (কাঙ্গুরপাড়া) গ্রামের মৃত্যু আয়েজ উদ্দিনের পুত্র রবিউল আলম তার কলেজ পড়–য়া কন্যা মেধাবী ছাত্রী কুলছুম বেগমের সহযোগিতায় পান চাষ করে। ভাগ্য বদলে এলাকায় তারা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। সাফল্যের কারণে বাবা ও মেয়ের নাম মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে।

পান চাষী রবিউল জানান, আমাদের এলাকার প্রধান ফসল ধান। পাশাপাশি ডাল, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুনসহ শীতকালীন সবজি আবাদ করা যায়। আমার নিজের কোন জমি নেই, মানুষের জমি বর্গা নেয়াও সমস্যা। তাছাড়া ভালো বীজের অভাব ও দুর্বল চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে ফলনও তেমন একটা পাওয়া যায় না। আর ফসল আবাদ করে উৎপাদন খরচও উঠে না। তখন আমি এবং আমার কন্যা কুলসুম জীবন বাঁচানোর তাগিদে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে বসতভিটার ৮ শতক জমিতে পান চাষের সিদ্ধান্ত নেই। তারপর ধার-দেনা করে সিরাজগঞ্জ থেকে বীজ এনে শুরু করি পান চাষ।’

প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে বছরে ওই জমিতে খরচ হয় ২৪ হাজার টাকা। পানে কোন ঝাঁঝ না থাকায় চাহিদাও প্রচুর। ওই জমি থেকে তিনি বছরে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার পান বিক্রি করেন। খরচ বাদে তার লাভ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। লাভের টাকায় ২টি গরু ক্রয় করেন রবিউল আলম। ২টি গরু থেকে বর্তমানে তার ৫টি গরু হয়েছে। সেই গরুর গোবর পানের জমিতে দেয়া যায় এবং দুধ বিক্রি করেও লাভ হয়।

তারপর থেকে সংসারের খরচ জুগিয়ে এক মেয়ের বিয়ে দেয়ার পরেও বাড়ির পাশে আরো ৯ শতক জমি কিনেছেন তিনি। সেই জমিতেও পান চাষ করার পরিকল্পনা আছে তার। কিন্তু তার হাতে কোন টাকা না থাকায় পড়ে আছে জমিটি। আক্ষেপের সাথে তিনি আরো জানান, চতরার সোনালী ব্যাংকসহ উপজেলার বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ নেয়ার জন্য ধর্ণা দিয়েও কোন ঋণ পাননি। তিনি আরো জানান, পান চাষে তাকে কোন সহযোগিতা করেনি সরকারের কৃষি অফিস। সহযোগিতা করলে তিনি আরো এগিয়ে যেতে পারতেন। ব্যাংক ঋণ পেলে বাকি জমিটুকুতেও পান চাষ করবেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সহযোগিতা না চাইলে দেব কিভাবে। এ এলাকায় তো আর সেভাবে পান চাষ হয় না। তার পরেও বর্তমানে আনুমানিক প্রায় পাঁচ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে বলে জানান তিনি।