কেঁচো চাষে আর্থিক উন্নতি

কেঁচো চাষে আর্থিক উন্নতি
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

মধুপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের দরিদ্র মহিলারা কেঁচো চাষের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে। তাদের কেঁচো সার ফসল চাষ ও মাছের উত্তম খাবার হিসাবে ব্যবহূত হওয়ায় বাজারজাতকরণেও সমস্যা হচ্ছে না। কেঁচো চাষে সফল নারীদের একজন মহিরন বেগম। দিন মজুর সুরুজ আলীর সাথে বিয়ের পর ছয় সন্তান জন্ম নেয়ায় অভাব-অনটনে সংসার অচল হয়ে পড়ে মহিরনের। এমতাবস্থায় বেসরকারি সংস্থা সিবিএসডিপির নিকট থেকে কেঁচো সার উত্পাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। সংস্থা তাকে দু’টি চাড়ি ও ৫০টি কেঁচো দেয়। সেই থেকেই পথ চলা। তার বাড়ি এখন কেঁচো সারের কারখানা। কোন খরচ নেই। খড়কুটা, লতাপাতা, ঘরবাড়ির আবর্জনা, তরিতরকারির উচ্ছিষ্ট, গবাদিপশু ও হাঁসমুরগীর বিষ্ঠা কেঁচোর খাবার। মহিরন এবার লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। সামনে দ্বিগুণ আয়ের আশা। খাওয়াপরার দুশ্চিন্তা দূর হওয়ায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন। তার দেখাদেখি গ্রামের আরো শতাধিক মহিলা কেঁচো সার তৈরি করে সংসারের অভাব-অনটন দূর করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রতি বছর উত্পাদন হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার কেঁচো সার। আদা, হলুদ, কচু, আনারস, কলা, শাকসবজি ও ফুল চাষে প্রয়োগ হচ্ছে এ সার। মাছের সুষম খাবার হিসাবেও এর চাহিদা রয়েছে। দূর-দূরান্তের গ্রাহকরা এসে এ গ্রাম থেকে মণকে মণ কেঁচো সার কিনে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক বেসরকারি সংস্থা কেঁচো সার উত্পাদনে প্রশিক্ষক হিসাবে এ গ্রামের মহিরনের মত নারীদের নিয়ে যায়। এ থেকেও তারা কিছু টাকাকড়ি আয় করে থাকেন। মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. হযরত আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার, ক্ষতিকর হরমোন ও কীটনাশক প্রয়োগ করায় কৃষির প্রাণবৈচিত্র্য ও ইকোসিস্টেম বিনষ্ট হচ্ছে। ফসলী জমি উর্বরতা হারাচ্ছে, উপকারী কীটপতঙ্গ বিলুপ্ত হচ্ছে। মহিরনের মত বিত্তহীন নারীরা পরিবেশ বান্ধব কেঁচো সার উত্পাদন করে জীবিকা নির্বাহ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন বলে জানান তিনি।