কুয়াশা ও শিশির কাটাতে ‘ম্যাজিক কঞ্চি’

সমুদ্র হক ॥ দুর্যোগ মোকাবেলায় গ্রামের মানুষ নিজের গরজেই নিত্যদিন চোখের সামনে থাকা জিনিস দিয়ে অনেক কিছুই উদ্ভাবন করে। এই উদ্ভাবনকেই কোন কর্মকর্তা নিজের বলে চালিয়ে দিয়ে বিদেশীদের দেখান এবং পুরস্কারও জুটিয়ে ফেলেন। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ অগোচরেই থেকে যায়। বগুড়ার সোনাতলা ও গাবতলীর গ্রামগুলোতে অতি ঘন কুয়াশা ও শিশিরে যখন বীজতলা যায যায় অবস্থা তখন কৃষক বাঁশ বাগান থেকে মোটা কঞ্চি কেটে উঠতি চারা রক্ষা করছে। একটু লম্বা কঞ্চি চারার ওপর ধরে সাবধানে নড়াচড়া করে কুয়াশার প্রলেপ ও শিশির ফেলে দিচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় শীতের এই দুর্যোগকে বলা হয় ‘নেওর।’ যা উঠতি বীজতলা ও জমির ক্ষতি করে। সোনাতলার রানীরপাড়া গ্রামের প্রবীণ কৃষক আজাহার বললেন “নেওর পড়ে চারা আর জমির বারোটা বাজ্যে যাচ্চিল। গাঁয়ের জুয়ান (তরুণ) ছলেরা বাঁশের কঞ্চি কাট্যে নেওর চটকে ফ্যলে দিচ্চে। হামাগেরে (আমাদের) মাথাত এই বুদ্ধি আসেনি।” গ্রামেরে ছেলেরা এভাবে কুয়াশা ও শিশির সরিয়ে দেয়ার কঞ্চির নাম দিয়েছে ‘ম্যাজিক কঞ্চি।’ কলেজের কয়েক শিক্ষার্থী আরও আধুনিক করে বললেন এর নাম ‘ডিউ এ্যান্ড ফগ রিমুভার স্টিক।’ গ্রামের সাধারণ মানুষের নিজস্ব উদ্ভাবনে বাঁশের কঞ্চিও যে দুর্যোগ মোকাবেলায় কতটা কাজ দেয় তা বোঝা যায় বগুড়ার পূর্বাংশের গ্রামগুলোতে গেলে। লোকজন বললেন রোদ ওঠার সঙ্গেই কৃষক কঞ্চি নিয়ে বীজতলায় গিয়ে ঘন শিশির অপসারণ করে। রোদে তা শুকিয়ে যায়। সোলায়মান বললেন, কাজটা যদিও ধৈর্য ও কষ্টের তারপরও চারা রক্ষায় কৃষক নিজের গরজেই তা করছে। যেভাবে ঘন কুয়াশাপাত হচ্ছে তাতে জমি জখম হয়ে যাচ্ছে। জমিতে পড়া কুয়াশার প্রলেপ সরাতে বাঁশ কেটে অর্ধেক করে তা জমির ওপর চেপে ধরে টেনে প্রলেপ সরিয়ে ফেলছে তারা। কৃষক নানাভাবে দুর্যোগ মোকাবেলার পন্থা উদ্ভাবন করেছে। যাতে খরচ প্রায় নেই। হাতের কাছেই উপকরণ মেলে। শুধু বুদ্ধির প্রয়োগ। যা করছে এ যুগের তরুণরা। সোলায়মান জানালেন, কীটনাশক ছিটাতে মুখে গামছা দেয়ার পরও চোখে নাকে অসুবিধা হতো। কয়েক তরুণ কৃষক স্বচ্ছ প্লাস্টিক কিনে তা মাপমতো কেটে দুই কোনায় ছিদ্র করে ইলাস্টিক বেঁধে চোখের সামনে মুখম-লে (অনেকটা হেলমেটের মতো) ব্যবহার করে সমস্যার অনেকটা সমাধান করেছে।