হজ ফ্লাইট থেকে বিমানের মুনাফা ৮০ কোটি টাকা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবার হজ ফ্লাইটে রেকর্ডসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করেছে। হজ ফ্লাইট থেকে বিমানের মুনাফা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। গতকাল শনিবার বিমানের প্রধান কার্যালয়ে হজ কার্যক্রম-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এ তথ্য জানান।
ফারুক খান বলেন, এ বছর আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার কারণে হজ ফ্লাইট পরিচালনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিমান এ বছর মোট ৫৪ হাজার ১৭৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করে ৬৫০ কোটি টাকা আয় করে। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। ২০ কোটি টাকা কম ধরলেও এবার ৮০ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। আগামী বছরের হজ ফ্লাইট পরিচালনার আবশ্যকীয় নীতিনির্ধারণ কার্যক্রম এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে।
বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার কারণে লাভের পরিমাণ বেড়েছে। যদি বিমানকে আরও উন্নত উড়োজাহাজ দেয়া হতো, তাহলে আরও লাভ করা সম্ভব হতো।
সংবাদ সম্মেলনে বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব) জামাল উদ্দিনসহ বিমান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছর হজযাত্রী পরিবহনে বিমান ২টি বোয়িং-৭৭৭, ১টি বোয়িং-৭৪৭ এবং ডিসি-১০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করে। হজ কার্যক্রমে ঢাকা-জেদ্দা রুটে মোট ১০৯টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় ২৫টি। চট্টগ্রাম থেকে ৮টি ও সিলেট থেকে ২টি ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।
বিমানের ফিরতি হজ ফ্লাইটে ডেডিকেটেড ও শিডিউল মিলিয়ে মোট ১২৯টি (১০৪ ডেডিকেটেড) ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। গত ৩০ নভেম্বর হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ হয়। তখন পর্যন্ত বিমানে ৫২ হাজার ৪০৯ জন হাজি দেশে ফিরেন। সৌদিয়া ও নাস-এ ফিরেছেন যথাক্রমে ৩৮ হাজার ৯৬০ এবং ১২ হাজার ৬ জন। এ সময়ের মধ্যে যেসব হাজি দেশে ফিরতে পারেননি, তারা ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিমানের ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন। এ বছর ১৭৩ জন বাংলাদেশী হজযাত্রী সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫২ জন হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে বিমান ৫৪ হাজার ১৭৯ জন যাত্রী পরিবহন করেছে। এ ছাড়া সৌদিয়া ৪২ হাজার ২০৬ জন এবং নাস এয়ারলাইনস ১৪ হাজার ১৬৭ জন হজযাত্রী পরিবহন করেছে।