শাবাশ বাংলাদেশ

 

 

অবশেষে ঢাকায় জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ঘুচল সিরিজ জয়ের অপেক্ষাও।
খুলনায় দুই ম্যাচের দুটিতেই জয়। তবে মিরপুরে এসে বাংলাদেশ দল পরপর দুই ম্যাচে হেরে যাওয়ায় আজকের ম্যাচটা হয়ে উঠেছিল অলিখিত ‘ফাইনাল’। এ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২ উইকেটে হারিয়ে ৩-২-এ সিরিজ জিতেছে মুশফিকুর রহিমের দল।
সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন মুশফিকুর রহিম। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যাথার্থ্য প্রমাণ করেন শফিউল-সোহাগরা। ১৭ রানের মধ্যে তিনটি উইকেটের পতন ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তবে কাইরন পোলার্ড ও ড্যারেন ব্রাভোর ১৩২ রানে জুটির ওপর ভর করে নিজেদের ইনিংসটা ২১৭ পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হয় ক্যারিবীয় দল।
জয় পেতে প্রয়োজন ২১৮ রান। গত ম্যাচের অভিজ্ঞতার আলোকে লক্ষ্যটা সহজ ছিল না মোটেই। ইনিংস শুরুর কয়েক ওভারের মধ্যে আশঙ্কাটা বেড়ে যায় আরও। দলীয় ৩০ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল, এনামুল হক ও জহুরুল ইসলাম। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর ৯১ রানের জুটিতে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।
এই যে বাংলাদেশ ম্যাচে ফিরল, আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ৪৮ রান করে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আউট হন ব্যক্তিগত ৪৪ রানে। এরপর সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে মমিনুল হক করেন ২৫ রান। শেষের দিকে সোহাগ গাজী ১৯ বলে ১৯ রান করেন। দলের জয় নিশ্চিত করে নাসির হোসেন ৫২ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। 
এ ম্যাচে বাংলাদেশের সফলতম বোলার শফিউল ইসলাম। মাশরাফির জায়গায় সুযোগ পেয়ে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। ৯ ওভার বল করে ৩১ রান খরচায় শফিউল তুলে নেন তিনটি উইকেট। মাহমুদউল্লাহ ও মমিনুল হক শিকার করেন দুটি করে উইকেট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৫ রান সংগ্রহ করেন কাইরন পোলার্ড। তাঁর ৭৪ বলের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও আটটি ছয়ের মার। পোলার্ডকে বোল্ড করেন মমিনুল হক। ৫১ রান করা ড্যারেন ব্রাভোকে ফেরান মাহমুদউল্লাহ। ডেভন টমাস করেন ২৫ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২১৭/১০ (৪৮ ওভার)
পোলার্ড ৮৫, ব্রাভো ৫১, টমাস ২৫
শফিউল ৩/৩১, মাহমুদউল্লাহ ২/৩৮, মমিনুল ২/১৪
বাংলাদেশ: ২২১/৮ (৪৪ ওভার)
মাহমুদউল্লাহ ৪৮, মুশফিকুর ৪৪, নাসির ৩৯*
রোচ ৫/৫৬, নারাইন ৩/৩৮
ফল: বাংলাদেশ ২ উইকেটে জয়ী।
টস: বাংলাদেশ