গ্রীষ্মের আনারস ফলছে শীতেও

জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় অর্থাৎ গ্রীষ্মই মূলত আনারসের মৌসুম। তবে শীতকালেও ফলটির উত্পাদন হচ্ছে। মৌলভীবাজারের চাষীরা এখন মাঘ-ফাল্গুনেও আনারস ফলাচ্ছেন। দামও পাচ্ছেন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি।
মৌলভীবাজারে রয়েছে অসংখ্য টিলা। লেবুর পাশাপাশি আনারস চাষও হচ্ছে এসব টিলায়। তবে অনুকূল পরিবেশের কারণে সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায়।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখা ও রাজনগর উপজেলায় মোট ১ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। আগে জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়েই এখানে আনারস পাওয়া যেত। একই জমিতে এখন মাঘ-ফাল্গুনেও ফলটি পাওয়া যাচ্ছে।
অসময়ে ফলন পেতে ভাদ্র, আশ্বিন থেকে শুরু করে কার্তিক পর্যন্ত আনারসের ডিগে হরমোন স্প্রে করেন চাষীরা। এর ৪৫-৬০ দিনের মধ্যে আনারসে ফুল আসে। পরবর্তী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে আনারস বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। এ মৌসুমে উত্পাদিত আনারসের দামও থাকে তুলনামূলক বেশি।
শ্রীমঙ্গলের আনারসচাষী মাখন মিয়া, আলফু মিয়া ও গিয়াস মিয়া জানান, ক্যালেন্ডার ও বিলাতি আনারস উত্পাদন করেন তারা। শীতে অর্থাৎ মাঘ-ফাল্গুনে উত্পাদিত প্রতিটি ক্যালেন্ডার আনারস তারা ১৫-২০ টাকায় বিক্রি করেন। একই মৌসুমে উত্পাদিত প্রতিটি বিলাতি আনারস বিক্রি করেন ৩৫-৪০ টাকায়। অথচ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে প্রতিটি ক্যালেন্ডার আনারস থেকে ৫-১০ ও বিলাতি থেকে ১৫-২০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না।
মৌলভীবাজার জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক আবদুল জলিল মিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, এ এলাকায়ই আনারস চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। অন্যান্য এলাকার চেয়ে এ এলাকার আনারস আগে ওঠায় কৃষক দামও একটু বেশি পান। তবে এখানকার আনারসের আকার অন্যান্য এলাকার তুলনায় কিছুটা ছোট।
তিনি জানান, জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আনারস চাষ হয় শ্রীমঙ্গলে। কৃষক যাতে আনারস চাষে আরও এগিয়ে আসেন, সে জন্য বিভিন্নভাবে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তা ছাড়া অন্যান্য ফসলের তুলনায় আনারসে রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাবও কম।
তবে আনারসকে ঘিরে এ এলাকায় একটি ফুড প্রোসেসিং ফ্যাক্টরি গড়ে তোলার কথা জানান কৃষক। একই সঙ্গে আনারস সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তারা।