কুড়িগ্রামে দেড় লাখ টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা

চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে আলু আবাদ বেড়েছে। গত মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় এবার জেলার কৃষক আলু চাষে আগ্রহী হয়েছেন। প্রান্তিক চাষী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আলু চাষ করছেন। তবে বীজ, সার, কীটনাশকের মূল্য, কোল্ডস্টোরের ভাড়া বৃদ্ধির ফলে উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা  করছেন স্থানীয় কৃষক।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী, নাগেশ্বরী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোয় আলুচাষীরা জমি তৈরি, আলুবীজ রোপণ, সার দেয়া ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরপর দুই মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষী থেকে শুরু করে আলু ব্যবসায়ীরাও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আলু চাষের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।
চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৫৪২ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন। তবে অনুকূল আবহাওয়ায় এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের আলুচাষী এরাদুল হক জানান, বর্তমানে আলুর উত্পাদন খরচ বেড়ে গেছে। শ্রমিকের মজুরি থেকে শুরু করে সার, বীজ ও কোল্ডস্টোরের ভাড়াও বেড়েছে। ফলে আলু চাষে আগের তুলনায়  লাভ খুব বেশি হয় না।
চিলমারী উপজেলার চাষী আবুল হোসেন জানান, তিনি নিজের জমিতে আগাম ধান আবাদ করে সেই জমিতে আলু চাষ করছেন। ধানের দাম কমে যাওয়ায় উত্পাদন খরচ না ওঠায় তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আলু চাষ করে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশা করছেন তিনি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মজনুর রহমান জানান, কুড়িগ্রামে এবার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আলু চাষ হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক প্রতীপ কুমার মণ্ডল জানান, জেলায় এবার ৫ হাজার ৫৪২ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন। প্রতি বছর জেলায় আলু চষের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েই চলেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেলে আলুর বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষক।