কোটি কোটি টাকা ফেরত

বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকে পাচার করা অর্থ দেশে ফেরত নিয়ে আসা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ৪টায় বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্ভরযোগ্য সূত্র। সূত্রটি জানায় ঢাকায় পৌঁছানো অর্থের পরিমান ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার। 
 
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ৪টায় বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা চেক করছি কত এসেছে। এ বিষয়ে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না।”
 
“দুদকের তদন্ত টিম আনুষঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত সিঙ্গাপুরে সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে দুদককে জানানো হয়েছিল, ডিসেম্বরের মধ্যে এই টাকা ফেরত আসবে।”

প্রসঙ্গত, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ থেকে ২০০৬ এর মধ্যে আরাফাত রহমান কোকো অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ কোটি টাকা পাচার করেন, যা মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই ঘটনায় দুদকের উপ-পরিচালক আবু সাঈদ বাদী হয়ে ২০০৯ এর মার্চ মাসে আরাফাত রহমান কোকো এবং সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী আকবর হোসেনের ছেলে ইকবাল হোসেন সায়মনকে আসামি করে কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন।

দুদক সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুরের নাগরিক লিম ইউ চ্যাং ২০০৪ সালে সিঙ্গাপুর ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন, যার শর্ত ছিল চ্যাং এবং কোকোর যৌথ স্বাক্ষরেই এই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যাবে। 

দুদকের তদন্ত টিম জানায়, মূলত চট্টগ্রাম বন্দরে টার্মিনাল নির্মাণ এবং সরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি টেলিটকের যন্ত্রাংশ কেনার সুবাদে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থই এই অ্যাকাউন্টে রাখা হতো।

২০১১ সালে মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় কোকোর ছয় বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে।