পেপে চাষ করে স্বাবলম্বী হলেন এক যুবক

ঝালকাঠিতে প্রায় প্রতি বছরই ঝড়-বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। তা সত্ত্বেও এখানকার বিভিন্ন অঞ্চলে শাক-সবজির আবাদ বাড়ছে। দুর্যোগের হাত থেকে সবজি ফসল রক্ষার জন্য কৃষকরা নানা কৌশল গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে পানির হাত থেকে পেঁপে গাছ রক্ষার জন্য তারা বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পেঁপে চাষের প্রতি অনেকের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া অধিক লাভের আশায় পেঁপের সঙ্গে মাছ চাষও করছেন অনেকে। এতে তারা সফলও হচ্ছেন। ফলে ঝালকাঠির বিভিন্ন অঞ্চলে পেঁপের সঙ্গে মাছ চাষ একটি জনপ্রিয় উদ্যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসস 
ঝাঠকাঠি জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় পেঁপের চাষ বেশি হয়। এখানকার কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানি থেকে পেঁপে গাছ বাঁচাতে উঁচু জমিতে কান্দি কেটে (নালা) পেঁপে চাষ সমপ্রসারণ করা হচ্ছে। অনেক পেঁপে চাষি পেঁপে গাছের কান্দিতে মাছ চাষ করছেন। সদর উপজেলার গাভারাম চন্দ্রপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম পাঁচ বছর ধরে পেঁপে চাষ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন। এ বছর তিনি চার বিঘা জমিতে কান্দি কেটে পেঁপে ও মাছের চাষ করেছেন। তিনি তার পেঁপে বাগানের কান্দিতে মনোসেক্স ও কার্ব জাতীয় মাছের চাষ করেছেন। তিনি জানান, পেঁপে ও মাছের চাষ এক সঙ্গে করে তিনি অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন।
একই গ্রামের পান চাষি বিমল রায় জানান, শহিদুল ইসলামের পেঁপে বাগানের সঙ্গে তার পানের বরজ রয়েছে। তিনিও ভাবছেন পানের বরজ ছেড়ে দিয়ে পেঁপে ও মাছের চাষ করবেন। এতে বেশি লাভ হবে বলে তার নিশ্চিত ধারণা। 
জানা গেছে, পেঁপে বাগান তৈরি করার পর থেকে ফসল শুরু হলে সারা বছরই ফসল তোলা যায়। প্রতিমাসে চাষিরা কমপক্ষে দুইবার ফলন তুলে বাজারে বিক্রি করে থাকেন। ১০ থেকে ১২ বছর একনাগাড়ে পেঁপে তোলার পর গাছ কেটে ফেলা হয়।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঝালকাঠি জেলার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁপের চাষ হয়েছে। প্রতি বছর এখানে হেক্টর প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন পেঁপে উৎপাদন হয়। এবারো ভালো ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন। 
কৃষি বিভাগের স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমএ হান্নান জানান, পেঁপে চাষ বেশ লাভজনক। আর পেঁপের সঙ্গে মাছের চাষ করায় লাভের পরিমাণ বেশিই হয়। কারণ পেঁপের বাগানে নালায় মাছের চাষ করে মাছের আয় দিয়েই পেঁপে চাষের খরচ পুষিয়ে নেয়া যায়।
পেঁপে চাষি বেলায়েত হোসেন জানান, বর্তমানে এখানকার বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে খুচরায় ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং পাইকারী ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে তারা লাভবান হচ্ছেন। আর গাছের পেঁপে এবং নালার মাছে পরিবারের চাহিদাও মিটাচ্ছে।