যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বৃদ্ধির প্রত্যাশা


ওবামার বিজয়কে স্বাগত জানালেন ব্যবসায়ীরা 

বারাক ওবামা পুনরায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় স্বাগত জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ওবামা পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় সেই দেশের সঙ্গে অনেক অমীমাংসিত বিষয় ফয়সালা হবে। তাছাড়া ওবামার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হলেও মার্কিনিদের আয় বাড়লে সেই দেশে বাংলাদেশে রফতানি বাড়বে। 
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন মনে করেন, বারাক ওবামা জয়ের ফলে বাংলাদেশের মানুষ এবং সেই দেশে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন তারা বেশি খুশি হয়েছেন। কারণ ইমিগ্র্যান্টদের ব্যাপারে বারাক ওবামা মিট রমনির চেয়ে অনেক সহনশীল। তাছাড়া ওবামা মধ্যবিত্তদের কল্যাণে অনেক কাজ করেছেন, হয়তো আগামীতেও করবেন। সুতরাং আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ সেরা পছন্দের ব্যক্তিকেই বেছে নিয়েছেন। মীর নাসির হোসেন বলেন, বারাক ওবামার এ জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশও লাভবান হবে বলে আমি মনে করি। কারণ আমেরিকা আমাদের পণ্যের বৃহত্ বাজার। সেই দেশের বাজারে আমাদের পণ্যের ডিউটি ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের দাবি রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। আশা করছি ওবামার এ মেয়াদে আমাদের সেই দাবি পূরণ হবে। তবে তার জন্য আমাদের দেশের সরকারকেও অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের কূটনৈতিক তত্পরতা আরও বাড়াতে হবে। 
এফবিসিসিআইর আরেক সাবেক সভাপতি আনিসুল হক বলেন, বারাক ওবামা পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াতে সেই দেশের অর্থনীতির পলিসি যে খুব একটা পরিবর্তন হবে তা মনে করি না। হয়তো আগের নীতিই বহাল রাখবেন। তবে তার পুনর্নির্বাচিতের বিষয়টি আমাদের দেশের জন্য মঙ্গল হতে পারে। কেননা সেই দেশের বাজারে আমাদের তৈরি পোশাক কোটামুক্তভাবে প্রবেশ করতে পারছে না। ওবামার চলতি মেয়াদে এ বিষয়ে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি আগামী মেয়াদে আমাদের এ দাবিটি আবারও জোরালোভাবে সেই দেশের কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হবে এবং আমাদের এ দাবিটি পূরণ হবে। 
বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বারাক ওবামার পুনর্বিজয় আমি পজিটিভভাবে দেখছি। পজিটিভভাবে দেখছি এ কারণে যে, চলতি মেয়াদে ওবামা তার দেশের অনেক মানুষের কর্মসংস্থান করেছে, সেই দেশের অর্থনীতিকে জাগিয়ে তুলেছেন। তিনি পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় অর্থনীতিকে গতিশীল করার তার যেসব কর্মকাণ্ড রয়েছে সেগুলোকে তিনি আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারবেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের আরও কর্মসংস্থান হবে এবং দেশটির অর্থনীতি আরও মজবুত হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মজবুত হলে তার সুফল বাংলাদেশও পাবে। কারণ একক দেশ হিসেবে আমেরিকা বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বাজার। আমাদের তৈরি পোশাকের সিংহভাগ যায় আমেরিকায়। সেই দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে আমাদের দেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের রফতানি আরও বাড়বে। আসলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলতে তার প্রভাব যেমন সমগ্র বিশ্বে পড়ে, তেমনি দেশটির অর্থনীতি ভালো থাকলেও তার ইতিবাচক প্রভাব সারা বিশ্বেই দেখা যায়।  সালাম মুর্শেদী আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের তৈরি পোশাকের কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছি। যদিও এটি চলমান প্রক্রিয়া, আমরা যারা উদ্যোক্তা এবং আমাদের দেশের সরকার এ বিষয়ে দেনদরবার চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করব বারাক ওবামা পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় আমরা আমাদের এ দাবিটি আরও গতিশীল করতে পারব এবং নতুন কংগ্রেসে এ বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করা যাবে। 
বিজিএমইএ সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের দেশের অনেক বিষয় নিয়ে নেগোসিয়েশন চলছে। যদি মিট রমনি নির্বাচিত হতেন তাহলে এ বিষয়গুলো হয়তো আবার নতুন করে শুরু করতে হতো। কিন্তু বারাক ওবামা ফের নির্বাচিত হওয়ায় এসব বিষয় নতুন করে শুরু করা লাগবে না। আলোচনা যে পর্যায়ে সেখান থেকেই আবার শুরু করা যাবে। এতে করে বাংলাদেশের বেশ কিছু দাবি হয়তো পূরণ হবে।