পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সিরাজগঞ্জের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র

সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় স্থাপিত ১৫০  মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চলতি মাসেই উৎপাদনে যাচ্ছে। ডুয়েল-ফুয়েল (গ্যাস ও ডিজেল) ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে আগামী বছরের মধ্যে কম্বাইন্ড সাইকেলে পরিণত করে আরও ৭৫ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ। ১৯শে অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়া কেন্দ্রটিতে ২রা নভেম্বর ১৫৪  মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড করা হয়েছে। ২০শে নভেম্বর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাবে  কেন্দ্রটি। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়বে মাত্র ১.৯০ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গ্যাস ও ডিজেল দিয়ে পরিচালনা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এখানে গ্যাস ব্যবহার করা হলে দৈনিক গ্যাস  প্রয়োজন পড়বে ৩৪ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট) আর ডিজেল ব্যবহার করা হলে দৈনিক ডিজেল লাগবে ৯০০ টন। ২রা নভেম্বর বিকালে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব  কেন্দ্রটি পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান। সেচ মওসুমের আগে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে আসতে পারায় বিষয়টি সুখকর হিসেবে দেখছেন সচিব। এজন্য তিনি যথা সময়ে উৎপাদনের জন্য কেন্দ্রটি প্রস্তুত করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। পরিদর্শনকালে পিডিবি’র  চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহাব খান, পিডিবি’র জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরীসহ  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সচিব আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, গ্যাসের স্বল্পতা দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ডিজেলে চলে যাবে। গ্যাস সঙ্কটের বিষয়টি মাথায় রেখেই এ ব্যবস্থা  নেয়া হয়েছে। পাওয়ার প্ল্যান্টের নিঃসরিত জ্বালানি দিয়ে হিট রিকভারি স্টিম জেনারেটরের মাধ্যমে তৈরি হবে বাষ্প। আর সেই বাষ্প দিয়ে স্টিম টারবাইন চালানো হবে। আর তাতেই বাড়তি ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে উৎপাদনে। সিম্পল সাইকেল থেকে কম্বাইন্ড সাইকেলে  যেতে বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় ৬০০  কোটি টাকা। আর সিম্পল সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টটি স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৭৯৯ কোটি টাকা। সে হিসেবে মোট খরচ পড়বে প্রায় ১৪শ’ কোটি টাকা। এছাড়াও আগামী অক্টোবর নাগাদ কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তর শেষ হলে একই পরিমাণ জ্বালানি দিয়েই বাড়তি ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। আর তষন কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২২৫ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রকল্প পরিচালক এটিএম জাহাঙ্গীর কবির জানান, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইফ টাইম ধরা হয় ১৫ থেকে ২০ বছর। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সার্ভিসিং এর মাধ্যমে ৩০ বছর পর্যন্ত চালানো হয়। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন  কোম্পানি ও চায়না ন্যাশনাল  মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন  কোম্পানির ব্যবস্থাপনার পরিচালিত হবে। এষান থেকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন  বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুৎ কিনে নিবে। গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা  গেলে প্রতি ইউনিটের উৎপাদন খরচ পড়বে ১.৯০ টাকা। এর মধ্যে জ্বালানি খরচ ৯৯ পয়সা আর ৯০ পয়সা ধরা হয়েছে নির্মাণ ও পরিচালনার ব্যয়। বিদ্যুতের দাম এখনও নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছেন নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার  জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদ আলম। তিনি জানান, পিডিবি’র কাছে ইউনিট দর ২.৫০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যাতে কোম্পানি মুনাফা দিয়ে নিজস্ব মূলধন বাড়াতে পারে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সয়দাবাদ এলাকায় প্রায় ১০ একর জায়গার ওপর এ বিদ্যুৎ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। জিওবি ও এডিবি’র প্রায় ৮শ’ কোটি টাকার অর্থায়নে ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎ  কেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করছে। সিম্পল সাইকেল থেকে কম্বাইন্ড সাইকেলে  যেতে বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় ৬০০  কোটি টাকা।  সে হিসাবে মোট খরচ পড়বে প্রায় ১৪শ’ কোটি টাকা। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একই জায়গায় একটি ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও পরে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।