‘সম্ভাবনাময় বাজার বাংলাদেশ’

জার্মানির বোশ গ্রুপ অব কোম্পানি সম্প্রতি রবার্ট বোশ (বাংলাদেশ) নামে ঢাকায় স্বতন্ত্র কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে ঢাকা সফর করছেন বোশ লিমিটেডের এমডি ও বোশ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ভিকে বিশ্বনাথান। গতকাল হোটেল সোনারগাঁওয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু হেনা মুহিব
সমকাল : বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশকে কেন বেছে নিচ্ছে বোশ?
বিশ্বনাথান : বাংলাদেশ এখন অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ। গত কয়েক বছর ধরে এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এমনকি বিশ্বমন্দার মধ্যেও যেখানে বড় অর্থনৈতিক দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে এ দেশের প্রবৃদ্ধি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশ নেক্সট ইলেভেন দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বোশ এ বাজারকে একটি শক্তিশালী বাজার হিসেবে বিবেচনা করছে। ঢাকায় আসার আগে আমরা বাজার সমীক্ষার মাধ্যমে এখানকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছি। সেটির ভিত্তিতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সমকাল : এ দেশে বোশের বিনিয়োগ পরিকল্পনা কেমন?
বিশ্বনাথান : বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশ মানে কেবল ঢাকা নয়। চট্টগ্রাম, সিলেটসহ অন্যান্য শহরেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে দ্রুত। আমরা সেভাবেই এগোতে চাই। আপাতত বছরে ১০০ কোটি টাকার লেনদেনকে লক্ষ্যমাত্রা ধরে বিনিয়োগ করছি আমরা। বর্তমানে পরিবেশকদের মাধ্যমে বছরে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি পণ্য এ দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানে কারখানা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের। আপাতত অটোমোবাইল, সিকিউরিটি সিস্টেম, পাওয়ার টুলস ও থার্মো টেকনোলজিসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে কাজ হবে। পর্যায়ক্রমে বোশের অন্যান্য শাখা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এখানে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।
সমকাল : বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
বিশ্বনাথান : দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সংকট বিনিয়োগে প্রধান সমস্যা। গত কয়েক দিনের অভিজ্ঞতায় আমরা আর কোনো সমস্যায় পড়িনি। কোম্পানি গঠনে সহজে আমরা নিবন্ধন পেয়েছি। তবে এখানে পুরোদমে কাজ শুরু হলে আসল পরিস্থিতি বোঝা যাবে।
সমকাল : বাংলাদেশি ভোক্তারা বোশ পণ্য কেন কিনবেন?
বিশ্বনাথান : জার্মানির উন্নত প্রযুক্তির বোশ পণ্যের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ১২৫ বছর ধরে ১৫০টির বেশি দেশে বোশ পণ্য সুনামের সঙ্গে ব্যবহার হয়ে আসছে। বাজারের সাধারণ পণ্যের তুলনায় কিছুটা দামি হলেও আমি বলব, বোশ পণ্য ব্যয়সাশ্রয়ী। কারণ, আমাদের পণ্যের স্থায়িত্ব সাধারণ পণ্যের তুলনায় অনেক বেশি।