তিতাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাস মজুদ চিহ্নিত

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে আপাতত ৮০০ থেকে ৯০০ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য নতুন মজুদ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। গ্যাসক্ষেত্রটির তৃতীয় মাত্রার ভূকম্পন জরিপ (৩ ডি সাইসমিক) শেষে সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজার পেট্রোবাংলার বোর্ডরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নতুন ১১টি কূপ খননের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানানো হয়। দেশের বর্ধিত গ্যাসের চাহিদা মোকাবেলায় দ্রুততম সময়ে সাতটি কূপ খনন করা হবে। দেশে এই প্রথম কোন গ্যাসক্ষেত্রের সাত হাজার ৪৩০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হলো। তৃতীয় মাত্রার জরিপে মোট ২৩টি গ্যাস স্তর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে ১০টি পুরনো স্তরে পাঁচটিতে কোন গ্যাসের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। বাকি ৮ স্তরের মধ্যে দুটি স্তর এখন যে জোন থেকে গ্যাস তোলা হচ্ছে সেখানে অবস্থিত। অবশিষ্ট ছয়টি ভূপৃষ্ঠের অতিগভীরে। অতিগভীর স্তরের তিনটি থেকে গ্যাস তোলা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অতিগভীর স্তরে দেড় টিসিএফ (এক হাজার ৫৬৯ বিসিএফ) গ্যাসের মজুদ দেখানো হলেও বাপেক্স বলছে তা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য রেখে দেয়া হবে। কারণ এসব স্তর থেকে গ্যাস তুলতে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক বলেন, গ্যাস সঙ্কট মোকাবেলার জন্য সাতটি নতুন কূপ দ্রুত খনন করা যাবে। এছাড়া তিতাস নদী এবং আশপাশের এলাকায় আরও তিনটি কূপ খননের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় ওই তিনটি কূপ খনন এখনই সম্ভব নয়। উন্নয়ন কূপে গ্যাসের চাপ দেখে আরও কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। ফারুক বলেন, সব থেকে আশার কথা হচ্ছে আমরা প্রায় সাড়ে সাত হাজার মিটার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছি, যা ইতোপূর্বে সম্ভব হয়নি।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুর বলেন, মহাজোট সরকারের রূপকল্প-’২১ বাস্তবায়নের জন্য ২০ টিসিএফ গ্যাসের প্রয়োজন। হাইড্রোকার্বন ইউনিট বলছে দেশে গ্যাসের অবশিষ্ট মজুদ ১৮ টিসিএফ কিন্তু আমি বলছি মজুদ রয়েছে ১২ থেকে ১৫ টিসিএফ। ফলে ’২১ বাস্তবায়নের জন্য আরও সাত টিসিএফ গ্যাস প্রয়োজন। যার জন্য আমাদের নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের কোন বিকল্প নেই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিদিন ১৮ লাখ টাকার গ্যাস চুরি হচ্ছে। সারাদেশে লক্ষাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। অবৈধ সংযোগের সঙ্গে বিতরণ কোম্পানির কারা জড়িত সে বিষয়ে পেট্রোবাংলা তদন্ত করছে। অবৈধ সংযোগ দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করায় ওই সব কর্মকর্তা কর্মচারীর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, সরকার চাইলে পেট্রোবাংলা গৃহস্থালিতে নতুন সংযোগ দিতে পারে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, তিতাসে কিভাবে গ্যাসের উদ্গিরণ হচ্ছে সে বিষয়ে এখনও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। তিনি বলেন, তিতাসের ৬, ৮, ৯, ১০ নম্বর কূপে সিমেন্টিং সমস্যার কারণে গ্যাস উদ্গিরণ হলে ওই সব কূপে ওয়ার্কওভার করা হবে। তবে কোন ভূমিকম্পের কারণে ভূগঠনের কোন জায়গায় ফাটল সৃষ্টি হলে কিছু করার থাকবে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মোট ১১ নতুন কূপ খনন করা যেতে পারে। কূপগুলো হচ্ছে তিতাস ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ২৯, ৩০, ১৮ এ, ২২ এ এবং একটি গভীর কূপ। এরমধ্যে সাতটি উন্নয়ন কূপ। তিনটি মূল্যায়ন কূপ এবং পাঁচ হাজার ১০০ মিটার গভীরতায় একটি অনুসন্ধান কূপ। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড সূত্র জানায়, ১৯৬২ সালে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রটি দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের মধ্যে প্রায় ২০ ভাগের যোগান দিচ্ছে। এখন দেশে মোট গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে দৈনিক দুই হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। তিতাস ক্ষেত্র এককভাবে যোগান দিচ্ছে ৪৫২ মিলিয়ন ঘনফুট।
স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে ১৯৬৮ সালে তিতাসে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত আগস্ট পর্যন্ত এখান থেকে মোট তিন হাজার ৪৪০ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য মজুদের পরিমাণ দুই হাজার ১৯৫ বিসিএফ।
সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড এবং বাপেক্স কর্মকর্তা ছাড়াও ৩ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন.

Source