১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব: এক কোটি কৃষক এখন সঞ্চয়ী

১০ টাকার বিনিময়ে সারা দেশে এই পর্যন্ত এক কোটিরও বেশি গ্রাহক ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুধু কৃষকের নামে হিসাব খুলেছে প্রায় ৯৬ লাখ। অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতাপ্রাপ্তদের জন্য প্রায় সাত লাখ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নামে খোলা হয়েছে আরো এক লাখ হিসাব। স্বল্প টাকায় খোলা এসব ব্যাংক হিসাবের গ্রাহকরা জীবনে প্রথম বারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবা পেতে শুরু করেছেন। তাঁরা সঞ্চয়ও করছেন এসব ব্যাংক হিসাবে। এর মাধ্যমে তাঁরা ব্যাংকিং লেনদেনের বাইরে সরকার প্রদেয় কৃষি উপকরণসহ অন্যান্য ভাতাও উঠাতে পারছেন। বাসস।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা মনে করছেন, কৃষকসহ সমাজের অন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসায় কৃষি উপকরণ ও ভাতার টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কৃষকসহ ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য বিনা মূল্যে আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সাহসী উদ্যোগ নেয়। এতে কৃষকরা ব্যাপক সাড়া দেন। তাঁরা এখন দৈনন্দিন ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছেন।’
বিপুল এই জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থিক সেবাভুক্তি সূচকে অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। এই সূচকে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শ্রীলঙ্কার পরই বাংলাদেশের অবস্থান।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক যাঁরা কখনো ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন বলে ভাবেননি, তাঁরা এখন ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারছেন। এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে কৃষকদের জন্য সঞ্চয়ের একটি উৎকৃষ্ট পদ্ধতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে এসব প্রান্তিক মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে উঠছে।
সোনালী ব্যাংকে ১০ টাকার ব্যাংক হিসাবধারী যশোর সদর উপজেলার শাহাবাজপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম বাসসকে বলেন, তাঁরা এখন সবজি বিক্রির টাকা বাড়িতে না রেখে ব্যাংকে জমা রাখছেন। বিদেশে অবস্থানরত তাঁদের এক নিকট আত্মীয় ১০ টাকার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাচ্ছেন। তাঁরা জানান, কৃষি উপকরণ বাবদ সরকারের ভর্তুকির টাকা এখন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারছেন। এতে সময় যেমন বাঁচছে, তেমনি অনেক ঝামেলাও এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ১০ টাকার বিনিময়ে খোলা অ্যাকাউন্টের মধ্যে সোনালী ব্যাংকে ২২ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯১, জনতা ব্যাংকে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ৬৪৬, অগ্রণী ব্যাংকে ১৪ লাখ ৪১ হাজার ৫২৩, রূপালী ব্যাংকে চার লাখ ৮৬ হাজার ৭৯১, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ২৫ লাখ আট হাজার ৪৪৭, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ১৪ লাখ সাত হাজার ২৫৮ এবং বেসিক ব্যাংকে ১৭৯টি হিসাব খোলা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নামে এ যাবৎ এক লাখ ৯ হাজার ২৫৮টি হিসাব খোলা হয়েছে। আর সামাজিক ভাতাপ্রাপ্তদের নামে খোলা হয়েছে ছয় লাখ ৮৩ হাজার ৬১২টি হিসাব।