কঙ্গোতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা অতুলনীয় : সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের সিনিয়র অ্যাডভাইজার

 বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কঙ্গোতে নিয়োজিত জাতিসংঘের সিনিয়র পলিটিক্যাল এ্যাফেয়ার্স এ্যডভাইজার, হেড অব অফিস ও এ্যাকটিং ডিরেক্টর মি. এম’ হ্যান্ড লাডজোউজি। রোববার স্থানীয় সময় দুপুরে বুনিয়ায় তার নিজ কার্যালয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সকল সদস্য কঙ্গোর শান্তি প্রতিষ্ঠায় যে আত্মত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রম করছেন তা অতুলনীয়। বিশ্বের যে সব দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন সব দেশেই তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

কঙ্গোর সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, কঙ্গোর বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। কঙ্গোর জাতীয় সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিভিন্ন মিলিটারি কন্টিনজেন্ট বুনিয়াসহ কঙ্গোর বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ি মনুস্ক-এর সার্বিক নিয়ম ও পদ্বতি অনুসরণ করে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের কার্যক্রম পরিচালনা খুবই সন্তোষজনক।

তিনি জানান, ইউএন পিসকিপিং অপারেশনে স্বাগতিক দেশের অনেক সমর্থন ও সহযোগিতা থাকে। কিন্তু কঙ্গোতে সে ধরনের কিছু নেই। বিগত ৩ বছর ধরে শান্তিরক্ষীরা এখানে শুধুমাত্র তাবুতে অবস্থান করে নিষ্টার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। তারা শুধু শান্তি রক্ষা নয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নেও অবদান রাখছে।

লাডজোউজি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো শান্তিরক্ষীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো ধরণের অভিযোগ উঠেনি। তিনি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব এবং শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালীরা যে বিরত্বের সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল, ঠিক একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা কঙ্গোর শান্তি প্রতিষ্ঠায় গৌরবোজ্জল ভূমিকা রেখে চলছে। বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সাহসিকতা ও আত্বত্যাগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্টায় গুরুত্বপ-র্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা কঙ্গোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন আভিযানিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে সর্বমোট ৯ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। নৈতিকতা ও সাহসিকতার পাশাপাশি ত্যাগ তিতিক্ষার জন্য তিনি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে তারা গর্ব করতে পারেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রায় দুই’শ সদস্যের শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি দল জাতিসংঘের নিজস্ব বিমানে ঢাকা থেকে উগান্ডা পৌছে। সেখানে একরাত অবস্থানের পর ৮ অক্টোবর তারা কঙ্গো পৌছে। একই ফ্লাইটে বাংলাদেশের ৬ সদস্যের একটি মিডিয়া প্রতিনিধিদলও কঙ্গো যায়।