সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ সহনীয়: আইএমএফ

সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থিতিকরণ কার্যক্রমের ফলে দেশে সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ সহনীয় পর্যায়ে এসেছে বলে মনে করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
তবে সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি এখনো পুরোমাত্রায় কাটেনি বলে মত ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে “বাংলাদেশের অর্থনীতির হালচিত্র, আইএমএফ সাহায্যপুষ্ট কার্যক্রম ও অর্থনীতির পূর্বাভাস” শীর্ষক এক সংলাপে আইএমফের আবাসিক প্রধান ডেভিড কাউয়েন এ মত ব্যক্ত করেন।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এ সংলাপের আয়োজন করে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে ডেভিড কাউয়েন বলেন, “সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। মূলত সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্থিতিকরণ (স্টেবিলাইজেশন) কার্যক্রমের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো ঝুঁকি বিদ্যমান।”
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। তবে অন্যান্য অবকাঠামো সমস্যাগুলো এখনো বিদ্যমান। বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির সক্ষমতার কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে।”
বাংলাদেশের অর্থনীতি বাহ্যিক অভিঘাত মোকাবেলায় সক্ষম উল্লেখ করে কাউয়েন বলেন, “আমদানি প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রবাসী আয় প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ভালো। অভ্যন্তরীণ চাহিদাও বেড়েছে।”
তবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অদূর ভবিষ্যতের ঝুঁকিগুলো প্রধানত বাহ্যিক কারণে সৃষ্ট উল্লেখ করে আইএমএফ কর্মকর্তা বলেন, “ইউরো জোনে অর্থনৈতিক সঙ্কট তীব্রতর হচ্ছে। বিশ্ববাজারে খাদ্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।”
এছাড়া বাংলাদেশের জন্য নির্বাচন-পূর্ব সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ অন্যতম ঝুঁকি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাহ্যিক অভিঘাত মোকাবেলায় এখনো দুর্বলতা রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজারের অর্ধেকই ইউরো জোনে। ভোক্তা ঝুড়ির দুই-তৃতীয়াংশই খাদ্যপণ্য। সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতির চাপ এবং শ্রমিক অস্থিরতা।”
জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয়ের সুপারিশ করে এতে বলা হয়, “এ প্রদ্ধতি অনুসরণ করলে ক্রমবর্ধমান ভর্তুকির পরিমাণ সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।”
অতি দরিদ্র্যদের ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সহনীয় রাখতে ডিজেল কার্ড প্রদ্ধতি চালুসহ লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি প্রদান কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন ডেভিড।
সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান, এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, পলিসি রিসার্চ ইন্সস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম