‘অর্থনীতি স্থিতিশীল’

আন্তর্জাতিক ঋণমাণ সংস্থা মুডি’স এর রেটিংয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি তৃতীয়বারের মতো বিএ-৩ রেটিং অর্জন করেছে, যা অর্থনীতির সুষ্ঠু ও জোরালো অগ্রগতির জন্য স্বীকৃতি।

তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মোকাবেলায় অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির উপর ভিত্তি করে মুডি’স বাংলাদেশের সার্বভৌম রেটিং নির্ধারণ করেছে।

‘ঋণ পর্যালোচনা: বাংলাদেশ সরকার’ শীর্ষক মুডিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দশকে বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চলমান ধারা অর্জন করলেও রেটিংয়ে থাকা সবগুলো দেশের চেয়ে এর মাথাপিছু জিডিপি কম।

এ ছাড়াও প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভরশীলতা ও স্বল্প বৈচিত্র্যের রপ্তানি খাত নিম্নমুখী বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১১ সাল পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির চাপ বেড়েছে। তাছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্যেও পতন অব্যাহত ছিল। সম্প্রতি এসব উপাদান নিয়ন্ত্রণে এলেও বছরে প্রায় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যুত খাতের প্রতিবন্ধকতাগুলোর মৌলিক সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে; যথাসময়ে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

পর্যালোচনায় আরো বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা বাংলাদেশের রেটিংয়ের জন্য প্রতিবন্ধক।

দুর্বল শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়নের পথে বাধা এবং তা বিনিয়োগের পথে ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিতে পারে বলে মনে করে মুডিস। তবে এপ্রিলে শুরু হওয়া আইএমএফের কর্মসূচি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গতি এনেছে।

এদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও মুডিস মূল্যায়নে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে শুধু ভারত এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।

বিএ রেটিং প্রাপ্ত গ্রুপের দেশগুলোর গড় বার্ষিক মাথাপিছু আয় চার হাজার ৬২০ ডলার। সেই তুলনায় বাংলাদেশের গড় বার্ষিক মাথাপিছু আয় সাড়ে পাঁচগুণ কম। এতো কম আয়ের দেশ হয়েও বাংলাদেশের রেটিং ওই সব সমৃদ্ধ দেশের সমান।