আউটসোর্সিং: সেরা তালিকায় বাংলাদেশ

ধীরে ধীরে অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের কাজে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের মুক্ত পেশাজীবীরা (ফ্রিল্যান্সার) এবার নিজেদের দক্ষতার মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন শীর্ষ তালিকায়। প্রতিনিয়ত নানা কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছেন তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের নানান কাজের সঙ্গে যুক্তও করছেন অনেকে। একটা সময় নির্দিষ্ট কিছু কাজের গণ্ডিতে থাকলেও এখন আর সেটি নেই। আউটসোর্সিং কাজের বিভিন্ন খাতে পদচারণ বাড়ছে বাংলাদেশি ফ্রিল্যন্সারদের এবং সফলতাও আসছে। আউটসোর্সিং কাজ পাওয়ার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বা গ্লোবাল মার্কেট প্লেস ওডেস্ক (www.odesk.com) বিভিন্ন কাজে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা।

ওডেস্ক ও আউটসোর্সিং
আউটসোর্সিং কাজ দেওয়া-নেওয়ার জনপ্রিয় জায়গা হলো ওডেস্ক। বিভিন্ন মার্কেট প্লেসের মধ্যে ওডেস্কের অবস্থান শীর্ষে। ২০০৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। ইন্টারনেটভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান মূলত পেশাজীবী ও কাজদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, যার পুরো ব্যাপারই সম্পন্ন হয় অনলাইনে ওডেস্কের ওয়েবসাইটে। এর বাইরে ওয়েবসাইটটি নানা ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন। ‘কনট্রাক্টর অ্যাপ্রেসিয়েশন ডে’ নামের এ আয়োজন বাংলাদেশেও হয়েছে।

দক্ষদের তালিকায় বাংলাদেশিরা
সম্প্রতি ওডেস্কের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কাজে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের একটি তালিকা করে। এতে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং ও ইনফরমেশন সিস্টেমস, লেখালেখিও অনুবাদ, প্রশাসনিক সহযোগিতা, ডিজাইন ও মাল্টিমিডিয়া, গ্রাহকসেবা, বিক্রয় ও বিপণন এবংব্যবসায় সেবা বিভাগে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনটিতে শীর্ষে সাঈদ ইসলাম
ওডেস্কের প্রকাশিত সেরা দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিষয়ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সারদের তালিকায় গ্লোবালাইজেশন বিভাগের তিনটিতে শীর্ষে আছেন বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার সাঈদ ইসলাম। এর মধ্যে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের লিনাক্স এবং অ্যাসটারিস্ক ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ভিওআইপিতে শীর্ষে আছেন তিনি। ওডেস্কে তিন হাজার ৪০০ ঘণ্টার বেশি কাজ করা সাঈদ ইসলাম ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওডেস্কে কাজ শুরুর পরই এপ্রিল মাসে তিনি ওডেস্কের স্পট লাইট কনট্রাক্টর তালিকায় জায়গা করে নেন। তিনটি বিভাগে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি এটুবিলিংয়ে ও ফ্রিপিবিএক্সে দ্বিতীয়, ট্রিক্সবক্স ও জিমব্রাতে পঞ্চম স্থানে আছেন তিনি। ছোটবেলা থেকে কারিগরি বিষয়ে কৌতূহলী সাঈদ ইসলাম কানাডায় ছাত্রাবস্থায় ১৯৯৮ সালে কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য বন্ধুদের দ্বারস্থ হতেন। ২০০১ সালে টেকনিক্যাল সাপোর্ট হিসেবে কম্পিউটার পেশাজীবন শুরু। এর মধ্যে নানা ধরনের কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। যার মধ্যে লিনাক্স, ভিওআইপি ও টেলিফোন বিলিং সিস্টেম অন্যতম। ২০০৩ সালে বিশেষ একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্টের অনুরোধে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। যেখানে টিডিএম সুইচ, সিসকো নেটওয়ার্কিং ও অ্যাডভান্স বিলিং শেখেন। সাঈদ ইসলাম বলেন, ‘বিদেশে থাকলেও দেশের প্রতি টান ছি।আমিসহ ছয়জন মিলে২০০৬ সালে ঢাকায় আমরা গড়ে তুলি একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, যা আমি কানাডা থেকে নিয়ন্ত্রণ করতাম। বিক্রয় ও বিপণন হতো কানাডা থেকে। এরপর চলেআসি বাংলাদেশে। ২০০৯ সালে পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কানাডার একটি অনলাইন গেমস প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক হিসেবে কাজ করি বাংলাদেশ থেকেই। দেড় বছরের এ সেবা শেষে প্রতিষ্ঠান থেকে আমাকে কানাডা গিয়ে নিজেদের অফিসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। আমি সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে দেশেই কাজ শুরু করি।’
২০১০ সালে ওডেস্কে যোগ দেন সাঈদ ইসলাম। এর মাঝে বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল থেকে সিনিয়র সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরির সুযোগ পান তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ সুযোগ পাওয়ার পর দেশের পাশাপাশি ভারতে কাজ করার সুযোগ চেয়ে জানতে পারি, সেখানে গুগলের এ অফিস কার্যক্রম নেই। তাই আমার আর এ পদে যোগ দেওয়া হয়নি।’
মুক্ত সোর্স প্রযুক্তিকে দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দেন সাঈদ ইসলাম। এ কার্যক্রমে যুক্ত হতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সঙ্গেও কাজ করছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্ত সোর্স ব্যবহারের মাধ্যমেও যে দারুণ কিছু করা যায় এবং বিষয়টিকে পেশা হিসেবে নেওয়া যায়, সে ধারণা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

এগিয়ে যাচ্ছি আমরা
প্রযুুক্তি যখন হাতের মুঠোয়, তখন দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো দারুণ কিছু করা যায়। এ কাজের ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং বড় একটি মাধ্যম। এতে যুক্ত হয়ে আপনি নিজের দক্ষতা প্রকাশের পাশাপাশি গড়তে পারেন নিজের পেশাজীবন।