ঈদে রেমিটেন্স এসেছে ৭৪৭ মিলিয়ন ডলার

 ঈদে প্রবাসীরা ৭৪৮ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। ১লা আগস্ট থেকে ১৭ই আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এ রেমিটেন্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে রেমিটেন্স এসেছে প্রায় ১৮৬ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া গত জুলাই মাসে দেশে ১,১৯৩ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের আহরণে পরিমাণ ছিল বেশি। তারা আহরণ করেছে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার। অপরদিকে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৪৭ মিলিয়ন ডলার। এদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে  ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। তাদের রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ২২৩ মিলিয়ন ডলার। অপরদিকে বিদেশী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, চলতি মাসের রেমিটেন্স প্রাপ্তির পরিমাণ জুলাই মাসকে ছাড়াতে পারে। ২০১০-১১ তে রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৭ শতাংশ ছাড়াতে পারে। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিটেন্স বাড়াতে বাংলদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন প্রবাসীরা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারছেন। এসব পদক্ষেপের ফলে রেমিটেন্স বাড়ছে। বাড়ছে রিজার্ভও পাশাপাশি কমতে শুরু করছে ডলারের দামও। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। স্বাধীনতার চারদশকে দেশ অনেকটা এগিয়েছে। আর এক্ষেত্রে  প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। যে কোন সমস্যা হলে প্রবাসীদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রেমিটেন্স পেতে দেশে থাকা পরিজনদের কোন সমস্যা না হয় তার জন্য গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া হুন্ডি কমিয়ে দেশে রেমিটেন্স বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাসুদ বিশ্বাস বলেন, রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় ডলারের বিপরীতে বাড়ছে টাকার দাম। গত ছয় মাসে টাকার মান বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। আমদানি ব্যয় কমে আসার বিপরীতে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় টাকায় নতুন শক্তির সঞ্চার হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের দাম ৮৭ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। 
কিন্তু রেমিটেন্স প্রবাহ ও ডলারের মজুত বাড়ায় দেশে ধীরে ধীরে নেমে আসছে ডলারের দাম। গত সপ্তাহে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম ছিল ৮১ টাকা ৩৫ পয়সা। যা চলতি সপ্তাহেও একই রূপ ছিল।