সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪৫০০ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ৪,৫৩০ কোটি টাকারও বেশি। লেনদেন ও মূল্যসূচক বাড়ায় বাজার মূলধন বেড়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। গত এক সপ্তাহে ডিএসই’র লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২০%। আগের সপ্তাহে এখানে ৮৯৫ কোটি টাকার শেয়ার বেচাকেনা হলেও এ সপ্তাহে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১,০৯১ কোটি টাকা, যা ১৯.৬৪% বেশি। সপ্তাহ শেষে ডিএসই’র গড় লেনদেন পৌঁছে ২৬৭ কোটি টাকায়। আর মূল্যসূচক বেড়েছে ৪৩.৫৪ পয়েন্ট। একই অবস্থা দেখা গেছে, দেশের অন্য শেয়ারবাজার সিএসই’তে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার মূলধন নির্ভর করে শেয়ারের মূল্যের ওপর। শেয়ারের মূল্য বাড়লে বাজার মূলধন বাড়বে। অপরদিকে শেয়ারের মূল্য কমলে বাজার মূলধন কমবে। গত সপ্তাহে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় বাজার মূলধনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসই’র বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ২৯,৭৭৯ কোটি টাকা। যা সপ্তাহ শেষে এসে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪,৩০৯ কোটি টাকা। জানা গেছে, আগের সপ্তাহে সূচক ছিল নিম্নমুখী। তবে গত সপ্তায় এ ধারা কাটিয়ে উঠলেও বিক্রির প্রবণতায় সূচকের খুব বেশি উত্থান হয়নি। তবে লেনদেন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, বেশির ভাগ সময় বাজার পতনমুখী থাকায় বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। কারণ ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই টাকা তুলে নেয়ার সুযোগ খুঁজছেন। এতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। জানা গেছে, সিডিবিএল’র কারিগরি ত্রুটির কারণে আগের সপ্তাহে দুই বাজারের লেনদেন একদিন বন্ধ ছিল। গত সপ্তাহে সরকারি ছুটি থাকায় লেনদেন দাঁড়ায় ৪ দিন। দরপতন দিয়ে সপ্তাহের শুরু হলেও শেষ হয় সূচকের উন্নতি দিয়ে। মাঝখানে একদিন উন্নতি ঘটে বাজার সূচকের। সব মিলিয়ে বাজার ছিল ইতিবাচক ধারায়। বিশেষ করে শেষ দিনের মূল্যবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেয় লেনদেনের পরিমাণ। এদিন ডিএসই’র লেনদেন হয় ৩৬৯ কোটি টাকা। এটি ডিএসই’র আড়াই মাসের সর্বোচ্চ লেনদেন। মূলত শেষ দু’দিনের লেনদেনই গত সপ্তাহের মোট লেনদেন বাড়িয়ে দেয়। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বাজারে লেনদেন বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে। এছাড়া, কয়েকটি ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠানের পুুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা তাদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দেয়। এতেই বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ছে এমন মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়। চার কার্যদিবসের মধ্যে সূচক বেড়েছে দুই কার্যদিবস আর দুই কার্যদিবসে সূচক কমেছে। দুই কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে ১০৩ পয়েন্ট আর কমেছে ৫৯ পয়েন্ট। অর্থাৎ সার্বিকভাবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সূচক বেড়েছে ৪৩.৫৪ পয়েন্ট বা ১.০৬%। আর এর আগের সপ্তাহের ডিএসইতে সূচক কমেছিল ১৮৬.২৭ পয়েন্ট বা ৪.৩৫%। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২৮৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বাড়ে ১৫৫টির, কমে ১১০টির, অপরিবর্তিত থাকে ১৬টির আর ৩টি প্রতিষ্ঠানের কোন শেয়ার লেনদেন হয়নি। গত সপ্তাহে ডিএসইতে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসই’র চার কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ১,০৭১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৮,৫১৫ টাকা। আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ৮৯৫ কোটি ৭৮ লাখ ৫৮,৬৫৯ টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে ১৭৫ কোটি ৯৫ লাখ ৩৯,৮৫৬ টাকা বা ১৯.৬৪% বেশি লেনদেন হয়েছে। ডিএসই’র গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬৭ কোটি ৯৩ লাখ ৭৪,৬৪৮ টাকা। এ সপ্তাহে মোট লেনদেন হওয়া ২৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৫টির, কমেছে ১১০টির, অপরিবর্তিত থেকেছে ১৬টির এবং বন্ধ ছিল ৩টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন। অন্যদিকে সিএসইতে মোট ২১১টি কোম্পানির ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮৫,৮১৮টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ১২৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২২টির, কমেছে ৮০টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৯টি কোম্পানির শেয়ারের দর। সিএইসি’র সার্বিক সূচক ১৬৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫৬৭.৪৮ পয়েন্টে। সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠান হলো- সায়হাম কটন মিলস লিমিটেড, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি লিমিটেড, আমরা টেকনোলজিস লিমিটেড, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড, রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড, সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, আর এন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, সায়হাম টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং মিলস লিমিটেড ও সামিট পাওয়ার। দর হারানো শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠান হলো- মাইডাস ফাইন্যান্স লিমিটেড, মন্নু স্টাফলার্স, ৫ম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, সমতা লেদার কমপ্লেক্স লিমিটেড, ৬ষ্ঠ আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ইসলামী লাইফ, ৮ম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, কোহিনুর কেমিক্যালস, শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড ও  বিডি ফাইন্যান্স। লেনদেনে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠান হলো- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি লিমিটেড, আর এন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড, তিতাস গ্যাস, কেয়া কসমেটিকস, যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, সায়হাম কটন মিলস লিমিটেড ও স্কয়ার ফার্মা।