জনশক্তি রফতানি বেড়েছে ৪৫ শতাংশ

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে জনশক্তি রফতানি বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। ২০১১ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ৩ লাখ ১ হাজার ৮০৪ কর্মী বিদেশে গেলেও চলতি বছরের একই সময়ে তা ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ জনে পৌঁছেছে। জনশক্তি রফতানি বাড়ার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে ৮ লাখ ৭৫ হাজার কর্মী বিদেশে যান। তবে ২০০৯ সালে এর পরিমাণ ৪ লাখ ৭৫ হাজারে নেমে আসে। ওই বছরের প্রথম সাত মাসে জনশক্তি রফতানি হয় ২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩। ২০১০ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ১৩১ এবং ২০১১ সালে ৩ লাখ ১ হাজার ৮০৪ কর্মী বিদেশে যান। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে জনশক্তি রফতানি হয়েছে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ কর্মী, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রফতানি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এ সময় দেশটিতে গেছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২২০ কর্মী। গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৭। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ওমানে জনশক্তি রফতানি হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ২৩৩, সিঙ্গাপুরে ৩৪ হাজার ২০, কাতারে ১৪ হাজার ২৩৩, বাহরাইনে ১২ হাজার ৪৩৪, সৌদি আরবে ১২ হাজার ২১৬ ও লেবাননে ৯ হাজার ১৫৩ জন। তবে বর্তমানে কুয়েত, মালয়েশিয়া, ইরাক ও লিবিয়ায় জনশক্তি রফতানি বন্ধ রয়েছে।

চলতি বছরে জনশক্তি রফতানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সভাপতি শাহজালাল মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশী শ্রমিক কর্ম ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। এ কারণে ভালো চাহিদা তৈরি হয়েছে। প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি। বেশ কয়েকটি বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারে আমরা প্রবেশ করতে যাচ্ছি। ফলে সামনে জনশক্তি রফতানি আরও বাড়বে।’
জনশক্তি রফতানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সাত মাসে দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৬৫ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা।

বিএমইটি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে চারটি ক্যাটাগরিতে জনশক্তি রফতানি হয়ে থাকে। প্রফেশনাল, স্কিল্ড, সেমি স্কিল্ড, লেস স্কিল্ড। এই সাত মাসে ৬৬৫ জন প্রফেশনাল, ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৭২ জন স্কিল্ড, ২১ হাজার ৮৫৪ জন সেমি স্কিল্ড এবং ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৭০ জন নন স্কিল্ড কর্মী বিদেশে যায়। বিদেশে প্রশিক্ষিত জনশক্তির চাহিদা বেশি। বর্তমানে এজেন্সিগুলোও দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

রিক্রুটিং এজেন্সিস মেসার্স ম্যাব অ্যাসোসিয়েটসের স্বত্বাধিকারী এবং বায়রার সহ-সভাপতি আবুল বারাকাত ভূঁইয়া বলেন, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রশিক্ষিত জনশক্তির চাহিদা বেড়েছে। তাই আমরা এখন ৩-৬ মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে জনশক্তি রফতানি করছি। আরব আমিরাতে প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদা বেশি থাকায় এখন এখানেই কর্মী বেশি পাঠানো হচ্ছে। প্রশিক্ষণের জন্য বর্তমানে ৩৮টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে আরও ৩৫টির মতো প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি জানান।