বাজারে স্বস্তি

রমজানের মাঝামাঝিতে এসে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। বাজার যে এখন শুধু স্থিতিশীল তাই নয়, কিছু কিছু পণ্যের দাম কমতির দিকেও। ফলে অনেকটা হাঁফ ছেড়েছে মধ্যবিত্তসহ স্বল্প আয়ের মানুষ। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে, এমন পণ্যের তালিকায় রয়েছে সয়াবিন তেল, চিনি ও লবণ। এছাড়া সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক মাসের ব্যবধানে দাম কমেছে আরো দুটি পণ্য পামঅয়েল ও রসুনের।

ভোজ্যতেল সয়াবিন ও পামঅয়েলের দাম কমা প্রসঙ্গে মৌলভীবাজারের পাইকারী ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী মো: আলী ভুট্টো ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ভোজ্যতেলের সরবরাহ বেড়েছে। তাই দাম কমতির দিকে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবার রমজান উপলক্ষে সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। এরমধ্যে রয়েছে, চিংড়ি বাদে অন্য সব ধরনের মাছ রফতানি বন্ধ, কাঁচামরিচ, বেগুনসহ যে সবজি রমজানে চাহিদা বাড়ে তা রফতানি বন্ধ করা, লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত লবণ আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়া, পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে পাকা রসিদ ব্যবহার বাধ্যতামূলক, অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়াসহ  বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে এবার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

এই সূত্র আরো জানান, এবার রমজানের শুরুতে চিনির বাজার কিছুটা বাড়লেও পরে বাংলাদেশে চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন তাদের চিনির দাম ৬০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫৫ টাকা করায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, দাম কমে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল হোসেন মিয়া গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘ক্রেতারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। এর ফলেও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সুবিধা হয়। কোন ক্রেতা প্রতারিত হয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ জানালে আমরা সঙ্গে সঙ্গে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেই।’

গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজার ও নিউমার্কেটসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বাজারে সয়াবিন, চিনি ও লবণের দাম কমেছে। গতকাল বাজারে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১২২ থেকে ১২৩ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৬৬৮ থেকে ৬৮০ টাকা, ১ লিটারের বোতল ১৩২ থেকে ১৩৮ টাকা দরে বিক্রি হয়। এছাড়া চিনি ৫৪ টাকা ও লবণ ১৮ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

কিন্তু গত সপ্তাহে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১২৫ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৬৮৫ টাকা, ১ লিটারের বোতল ১৪০ টাকা , চিনি ১৫৬ টাকা ও লবণ কোম্পানিভেদে ১৮ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

এছাড়া টিসিবির হিসাবে গত এক মাসের ব্যবধানে ভোজ্যতেল পামঅয়েলের দাম কমেছে ৩ শতাংশ ও রসুনের কমেছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। গতকাল বাজারে প্রতি লিটার পামঅয়েল ৯৪ থেকে ৯৫ টাকা ও রসুন মানভেদে ৪০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১১০ থেকে ১১২, নেপালি মসুর ডাল ১০৮ থেকে ১১২, মধ্যমমানের বড় দানা মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, খেসারি ডাল ৫৫ থেকে ৬০, এঙ্কর ডাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিনির পাশাপাশি পেঁয়াজের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২৪ থেকে ২৫ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয় যা রমজান জুড়েই স্থিতিশীল রয়েছে।

চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। মোটা চাল মানভেদে ২৮ থেকে ৩২ টাকা, স্বর্ণা ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা, পাইজাম/লতা মানভেদে ৩৪ থেকে ৩৮ টাকা ও নাজিরশাইল মিনিকেট মানভেদে ৩৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

NewImage