ঈদকে ঘিরে কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা : মহাদেবপুরে টুপি তৈরিতে ব্যস্ত ১০ হাজার নারী

ঈদকে সামনে রেখে মহাদেবপুরের ৩০টি গ্রাম এখন টুপি তৈরির গ্রামে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার নারী কারিগর ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন টুপি তৈরিতে। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এখানকার তৈরি টুপি রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। টুপির চাহিদা সারাবছর থাকলেও ঈদ মৌসুমে এসে এ চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
টুপির এ বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন কারিগররা। আগে যে পরিবারগুলো শুধু মাত্র পুরুষ সদস্যের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল সেসব পরিবারের মেয়েরা এখন টুপি সেলাই করে বাড়তি আয় করে সংসারে এনেছে স্বচ্ছলতা।

উপজেলার শিবরামপুর, বিলমোহাম্মদপুর, লক্ষণপুর, রামচন্দ্রপুর, হেরেমনগর ও ভালাইন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বাড়ি বাড়ি চলছে টুপি তৈরির কাজ। শিবরামপুর গ্রামের টুপির কারিগর তানজিমা জানায়, সে সারাবছর অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে প্রতিমাসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা আয় করে। ঈদ মৌসুমে এ আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা।
শুধু তানজিমাই নয়, এখানকার জ্যোসনা, মারিয়া, মুক্তা, মাসুদা, নাছিমা, আঙ্গুরী ও মারিয়াসহ অনেক নারী টুপি তৈরি করে প্রতিমাসে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সংসারের ব্যয় মেটাচ্ছে। এ এলাকার অনেক ছাত্রীও এখন লেখাপড়ার ফাঁকে অবসর সময়ে টুপি সেলাই করে লেখাপড়ার খরচ মিটিয়েও বাড়তি আয় পিতার সংসারে দিচ্ছে।

স্কুলছাত্রী দিলরুবা, সাথী, নাদিরা ও পারভীন সুলতানা জানায়, তাদের দরিদ্র পিতার পক্ষে জামা-কাপড়সহ লেখাপড়ার খরচ জোগানো সম্ভব হয় না। প্রতিবেশীদের কাছে টুপি সেলাই করা শিখে এখন তারা বাড়তি আয় করে লেখাপড়ার খরচসহ নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটিয়ে অবশিষ্ট টাকা পিতার সংসারে দিচ্ছে। 

টুপির কারিগর মুক্তা জানান, পরিশ্রম করে কারিগররা টুপি তৈরি করলেও লাভের বড় অংশ চলে যায় মহাজনদের পকেটে। মহাজনরা তাদের একটি টুপি তৈরির জন্য দেন মাত্র ৩শ’ ৫০ টাকা। এ টুপিই মহাজনরা দুবাই ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকায় রপ্তানি করেন।

এ ব্যাপারে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, টুপি তৈরির এ বিষয়টি তিনিও জেনেছেন, এসব টুপি তৈরির শিল্পীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আবেদন পেলে তাদের সরকারিভাবে ঋণ সহায়তার জন্য চেষ্টা করবেন। এছাড়া আগামী সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে তিনি জানান। 

উত্তর গ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শাহ আলম ফয়সাল জানান, ঈদকে ঘিরে শুধুমাত্র তার ইউনিয়নে এবার প্রায় ২০ লাখ টাকার টুপি বিক্রি হবে। এভাবে মহাদেবপুর উপজেলার ৩০টি গ্রাম থেকে এবার প্রায় ১ কোটির টাকার টুপি বিক্রির আশা করছেন স্থানীয় টুপি কারিগররা। 

সরকারি, বেসরকারি ব্যাংক ও এনজিও তাদের আর্থিক ঋণ সহায়তা দিলে এ কুটির শিল্প আরও প্রসার হবে এমন সম্ভাবনার কথা অনেকেই জানালেন।

NewImage