র‌্যাবের ডগ স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছে সরাইলের ৬ কুকুর

দেশে এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ডগ স্কোয়াডে এবার যুক্ত হয়েছে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইলের বিখ্যাত ৬টি কুকুর। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সেখানে এই দেশীয় কুকুরগুলো আনা হয়েছে। এসব কুকুরের বয়স আড়াই মাস। এই স্কোয়াডে ৬৪টি বিদেশী প্রজাতির কুকুর রয়েছে। মিরপুর ১৪ নম্বরে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াডে ৬ কুকুর অন্য বিদেশী ৬৪টি কুকুরের সঙ্গে মেশানোর চেষ্ট চলছে। সহসাই এই প্রজাতির আরো ৬টি কুকুর এই স্কোয়াডে যুক্ত হবে। র‌্যাব কর্মকর্তারা দাবি করছেন, দেশী প্রজাতির এই কুকুরের হিংস্র ও শিকারি হিসেবে বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই প্রজাতির কুকুর এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। এক্ষেত্রে সরাইলের কুকুর প্রশিক্ষিত করা গেলে একদিকে বিদেশ থেকে ডগ স্কোয়াডের জন্য লাখ লাখ

টাকা ব্যয়ে কুকুর কিনতে হবে না। অন্যদিকে দেশীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা যাবে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট ৬৬ জন র‌্যাব সদস্য ও ৪০টি বিদেশী কুকুর নিয়ে র‌্যাব ডগ স্কেয়াডের যাত্রা শুরু হয়। গত বছর সেখানে ছিল ৫৩টি কুকুর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই স্কোয়াড ভিভিআইপি নিরাপত্তা, ইংরেজি নববর্ষ, বিশ্বকাপ ক্রিকেট, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ঈদ, বড়দিন ও পুজোর নিরাপত্তা এবং মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ডগ স্কোয়াড মাঠে নামানো হয়।

এদিকে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াডের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) ২৫টি বিদেশী কুকুর এনে মিন্টো রোডে ডগ স্কোয়াড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজিবি সীমান্তের ১০টি পয়েন্টে মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে ডগ স্কোয়াড নামানোর কথা ভাবছে।

র‌্যাব মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, সরাইল প্রজাতির কুকুর প্রথম এদেশে আনে ব্রিটিশরা। তারা এগুলো লালন পালন করতো। তখন এগুলো ছিল তাদের বাড়ির শোভা এবং অনেকটা প্রহরীর কাজ করতো। এর নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। এরা খুব হিংস্র এবং খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে এবং নজর তীক্ষè। শিকার টার্গেট করলে মিস হওয়ার নজির নেই বললেই চলে। এগুলো দেখতে বিদেশী কুকুরের মতো। এখন এগুলোর খাওয়া, চলাফেরা পর্যবেক্ষণ চলছে। তিনি বলেন, বিদেশী কুকুর আনা ও লালন পালনে অনেক খরচ। স্কোয়াডের ৬৪টি বেশি কুকুরের মধ্যে সবকটি বিদেশ থেকে কেনা নয়। বিদেশ থেকে আনা কয়েকটি কুকুর বাচ্চা দিলে সেগুলো প্রশিক্ষণ দিয়ে এতে যুক্ত করা হয়েছে। সবদিক বিবেচনা করেই সরাইলের কুকুর ডগ স্কোয়াডে আনা হয়েছে। বিদেশী কুকুরের মতো এই কুকুরগুলো ট্রেনিং দিয়ে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদক উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হবে।

র‌্যাব ডগ স্কোয়াডের পরিচালক লে. কর্নেল রিয়াজুর রহমান। সেখানে কাজ করছেন র‌্যাবের ৮৩ জন সদস্য। এই প্রকল্পের অফিসার ইনচার্জ ক্যাপ্টেন আবু নাসের মোঃ তানজিরুল হাসান জানান, তাদের ওখানে কানাডার ৫০টি ল্যাবরেটর ও ১৪টি জার্মান শেফার্ড প্রজাতির কুকুর ছিল। গত ২২ মে সরাইল থেকে ৬টি কুকুর আনা হয়েছে। একই স্থান থেকে আরো ৬টি কুকুর সংগ্রহের চেষ্ট চলছে। তিনি বলেন, এখন ৬টি কুকুর পুরো নজরদারিতে রেখে সেগুলোকে বিদেশী ধাঁচের সঙ্গে মেলানোর কার্যক্রম চলছে। এগুলোর বয়স আড়াই মাস। বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে বেসিক ট্রেনিং শুরু হবে। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন কুকুরগুলো পর্যবেক্ষণে তারা বিদেশী ধাঁচের কাজ করবে বলে ধারণা মিলেছে। সরাইলের ১২টি কুকুর দিয়ে আলাদা শেডে পৃথক স্কোয়াড করার চিন্তাভাবনা চলছে।

ভোরের কাগজ : ০১/০৮/২০১২