বাজার মূলধন বেড়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা

সূচকের নিম্নমুখী ধারা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে পুঁজিবাজার। অব্যাহত পতনের পর গত সপ্তাহে (২২ থেকে ২৬ জুলাই) পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। সে সঙ্গে বেড়েছে সব সূচক, বাজার মূলধন এবং আর্থিক ও শেয়ার লেনদেন। গত সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে লেনদেনের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫১২ কোটি ৬২ লাখ ৬১ হাজার টাকা। সপ্তাহ জুড়ে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় বাজার মূলধনও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন আগের সপ্তাহ থেকে ৫ হাজার ১৭১ কোটি টাকা বেড়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬৮৩ কোটি ৮৬ লাখ ১ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। 
বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে আর্থিক লেনদেনও বেড়েছে। টানা তিন সপ্তাহ ডিএসইতে গড় লেনদেন ২০০ কোটি টাকার নিচে থাকলেও গত সপ্তাহে তা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে আর্থিক লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৭১ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এ সময় গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৩৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে (১৫ থেকে ১৯ জুলাই) ডিএসইতে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৬৮ কোটি ৪০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। ওই সময়ে গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৭৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ বা ৬১ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গেল দুই সপ্তাহে পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংক পুঁজিবাজারে ১২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বড় পুঁজির বিনিয়োগকারীরাও বাজারে আবার সক্রিয় হচ্ছে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাষ্ট্রায়িত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইসিবিকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আর এসব কারণে পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে সপ্তাহ শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম, বাজার মূলধন ও আর্থিক লেনদেন বেড়েছে। এই অবস্থা ধরে রাখতে হলে ঘোষিত বিনিয়োগ যাতে বাস্তবায়ন হয় সেদিকে এসইসিকে সতর্ক থাকতে হবে। 
গত সপ্তাহের বাজার চিত্র : গত  সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর সাধারণ মূল্য সূচক ছিল ৪ হাজার ১৬৬ পয়েন্ট। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সপ্তাহ শেষে তা ১১৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়।  সপ্তাহ জুড়ে লেনদেন হওয়া ২৮২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২১৬টির, কমেছে মাত্র ৫৭টির এবং ৯টি শেয়ারের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।