২০১১-১২ অর্থবছরে কাঁচাপাট রফতানি বেড়েছে

  ২০১১-১২ অর্থবছরের ১১ মাসে দেশের সোনালি আঁশ খ্যাত কাঁচাপাট রফতানি বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গড়ে যে পরিমাণ কাঁচাপাট রফতানি হয়েছে, পরের ৬ মাসে রফতানি হয়েছে তার দ্বিগুণ। নতুন অর্থবছরের কাঁচাপাট কেনার তাগিদে পুরনো কাঁচাপাট বিক্রি করে দেয়ায় রফতানির পরিমাণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন।
জুট অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই ২০১১ থেকে মে ২০১২ পর্যন্ত) ২০ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩৪ বেল কাঁচাপাট রফতানি হয়েছে। এ সময়ে তোষা পাট ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৬ বেল, সাদা ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৬ বেল ও মেস্তা ৬৩ হাজার ৪৮২ বেল রফতানি হয়েছে। ১১ মাসে ২৩টি দেশে কাঁচাপাট রফতানি করে ১ হাজার ৩৯৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরের ১১ মাসে ১৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮১ বেল কাঁচাপাট রফতানি হয়েছিল।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পাট আমদানিতে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ভারত। বেনাপোল দিয়ে ভারতে রফতানি হয়েছে ৮ লাখ ১২ হাজার ৫৯৪ বেল পাট। এর পরের অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটিতে রফতানি হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩২ বেল। তৃতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানে ৪ লাখ ৫ হাজার ৭১৫ বেল, চতুর্থ স্থানে থাকা আইভরি কোস্টে ৭৬ হাজার ২১৯ বেল, পঞ্চম স্থানে থাকা নেপালে ৫৪ হাজার ৪৩১ বেল কাঁচাপাট রফতানি হয়েছে। বেনাপোল বন্দর ছাড়াও চট্টগ্রাম, মংলা ও বাংলাবান্ধা দিয়ে পাট রফতানি
কার্যক্রম চলছে।
কাঁচাপাট রফতানির ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে পপুলার এক্সচেঞ্জ ১১ মাসে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৫ বেল কাঁচাপাট রফতানি করেছে। এ ছাড়া এফআর জুট ট্রেডার্স ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৭৩ বেল, উত্তরা জুট ট্রেডার্স ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮ বেল, রেজা জুট ট্রেডিং ৮৬ হাজার ৬২৬ বেল, একে জুট ট্রেডিং ৬৭ হাজার ৮২২ বেল, উত্তরা পাট সংস্থা ৬৪ হাজার ৩৬৭ বেল, ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্স ৬৪ হাজার ৬ বেল কাঁচাপাট রফতানি করেছে।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও আরজু জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আরজু রহমান ভূইয়া বণিক বার্তাকে জানান, নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে। এ কারণে কাঁচাপাটের রফতানি বেড়েছে। দাম কম পাওয়ায় বিদেশী ক্রেতারা বেশি পরিমাণে পাট কিনে মজুদ করে রাখছেন, যাতে পরবর্তী অর্থবছরের শুরুতে দর বাড়লেও তাদের সমস্যায় না পড়তে হয়। বর্তমানে দেশে পাট উত্পাদন সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। কিছুদিন আগে দাম বাড়লেও বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী গণেশ চন্দ্র সাহা জানান, বর্তমানে ফরিদপুর অঞ্চলের ভালো পাট ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং অন্যান্য অঞ্চলের পাট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র পাট উঠছে। এ জন্য বেচাকেনা কম। তবে সরকারের তদারকি না থাকলে পাটের দর কমে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কুমিল্লা জুট ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শহীদুল্লাহ সরকার জানান, মাত্র মোকামে পাট উঠছে। ব্যাংক সমস্যার কারণে অনেকে নতুন করে কাঁচাপাট ক্রয় করতে পারছেন না।
এ ছাড়া রংপুরে বন্যা এফেক্টের কারণে দাম কিছুটা কম। বর্তমানে এক্সপোর্টের চাহিদা কমে যাওয়ায় রফতানিকারকরা বুঝে শুনে কোয়ালিটি দেখে পাট কিনছেন।